আদালতের আদেশ অমান্য করে ভাঙা হচ্ছে শতবর্ষী মসজিদ, মুসল্লিদের মাঝে চরম ক্ষোভ

কওমি ভিশন ডেস্ক: মসজিদের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে বুলডোজার, আজকে ভাঙা হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের অর্ধশত বছরের পুরনো মসজিদ।

ঢাকা আগারগাঁওয়ের প্রাক্তন বিএনপি বস্তির কোল ঘেঁষে অর্ধশত বছরের পুরনো মসজিদুল আবেদীন জামে মসজিদ। হাজার হাজার ভাসমান পরিবারের তিনপুরুষ অবধি নামাজ আদায় করার একমাত্র মসজিদ। বলা চলে, সেই মসজিদটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল জনবসতি। আজ সেখানে নেই সেই বিএনপি বস্তি। পিঁচঢালাই সড়কের অপর পাশে প্রতিষ্ঠা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, শত শত দোকান ও কয়েক কুড়ি পাকা দালানও হয়েছে। মসজিদটি কিন্তু সেখানেই ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।

পাঞ্জেগানা নামাজ, জুমুয়া, ঈদের জামাত এবং জানাযার নামাজে প্রতি ওয়াক্তেই ভরে উঠে সেই মসজিদটি। কিন্তু আজকে সেই মসজিদটিই হয়ে উঠেছে গুটিকতক স্বার্থান্বেষী মহলের চোখের বালি। এই মহলের মধ্যে রয়েছে মসজিদ কমিটির প্রধান জনাব আব্দুল গণি, ২৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ আরো কয়েকজন।

স্থানীয় লোক মারফত জানা গেছে উক্ত মসজিদের জমিটি অনুর্ধ্ব ষাট বছর পুর্বে আগারগাঁও এলাকার মরহুম জয়নুল আবেদীন সাহেব ওয়াকফ করে যান। বর্তমানে উনার সন্তানগণই মসজিদটির মুতওয়াল্লী হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধান করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে সড়ক প্রশস্তকরণের নামে মসজিদটির ভূমি অধিগ্রহণ করা নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল গণির গোপন বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে মসজিদের দুই-তৃতীয়াংশ জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহিত হবে এবং অধিগ্রহনের বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা মসজিদ কমিটিকে দেওয়া হবে। সেই টাকার লোভেই আব্দুল গণি মসজিদটি ভাঙার জন্য উঠে পড়ে লাগে। উক্ত এলাকার ২৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফোরকান সাহেবও এ বিষয়ে অবগত আছেন।

মুতওয়াল্লীদের পরিবারবর্গের সাথে ফোনালাপে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের সাথে মসজিদ মুতওয়াল্লীদের এই মসজিদ বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়। মসজিদটি ভাঙার বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত আগ্রহ দেখে খটকা লাগে মসজিদ মুতওয়াল্লীদের মনে। তারা বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় সমাধানের জন্য উচ্চ আদালতে রীট দায়ের করে। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে মসজিদের জমিটির জন্য স্ট্যাটাস ক্যু বা স্থিতিবস্থা রুল জারী করে। সেখানে উভয় পক্ষকে একমাসের সময় দেওয়া হয় বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়ার জন্য। এরই মাঝে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কোর্টের কার্যক্রমও অনেকাংশে এই সাধারণ ছুটির আওতায় চলে আসে। তখন থেকে এযাবত এই বিষয়টি নিয়ে আর কোন উচ্চবাচ্য হয়নি।

স্থিতিবস্থা রুল জারীর কপি

ছয়দিন পূর্বে সিটি কর্পোরেশন থেকে মসজিদের মুতওয়াল্লীকে চিঠি দেওয়া হয় যে অদ্য ২১ তারিখ রোজ রবিবার সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি আসবে মসজিদের জমিটি চিহ্নিত করার জন্য। ২০ তারিখ সন্ধ্যায় স্থানীয় থানা কর্তৃক মসজিদের ইমাম সাহেবের নিকট হতে মসজিদের ওয়াকফনামা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাগজপত্র নেওয়া হয় এবং জানানো হয় যে আগামীকাল সকাল ১০ টায় থানা হতে পুলিশ ফোর্স আসবে উচ্ছেদ অভিযানে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর একটি বুলডোজার এনে মসজিদের সামনে রাখা হয় এবং বুলডোজার দিয়ে আঘাত হেনে মসজিদের মেহরাবের দেয়ালে ফাটল ধরিয়ে দেওয়া হয়। বুলডোজারটিকেও সারা রাত মসজিদের সামনেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে মসজিদের ইমাম সাহেব এবং মুসল্লীগণ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। উনারা আশঙ্কা করছেন যে হয়তো জমি চিহ্নিতকরণের নামে পুলিশী প্রহরায় মসজিদটি আজকে ভেঙে ফেলা হবে।

মসজিদের ভেতর থেকে (ফাঁটা মেহেরাব)

এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে আজ সকলে মসজিদের সামনে একত্রিত হবে এবং সর্বশক্তি প্রয়োগ করে হলেও মসজিদ ভাঙা প্রতিহত করবে।

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: