শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে সৌদিআরব অবশেষে ৩ অক্টোবর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বেফাকের বিতর্কিত মহাসচিব আবদুল কুদ্দুস ৭১ টিভিতে আমাকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে; ক্ষমা না চাইলে মামলা করব : কারী রিজওয়ান আরমান জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার সমস্ত শয়তানি কার্যক্রমের উৎস হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা: হুথি আনসারুল্লাহ হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীকে কটূক্তি; শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগে করা হচ্ছে মামলা ভারতের সঙ্গে কষ্টে গড়া সম্পর্ক ছোট্ট পেঁয়াজে নষ্ট হচ্ছে: সংসদীয় কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাতৃভাষা দিবস চালুর চেষ্টায় বিজেপি আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর মাগফিরাত কামনায় রংপুরে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
add

ইসলামের সুমহান বাণী প্রচারে ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা আবশ্যক

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
add

মুহাম্মদ আবু নাসের ইকবাল


ভাষা আল্লাহ প্রদত্ত একটি বিশেষ নেয়ামত৷ ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার উদ্ভব হয়েছে৷ মানুষের উচ্চারিত অর্থবহ বহুজনবোধ্য ধ্বনির সমষ্টিকে ভাষা বলে। ভাষার মাধ্যমেই আমরা পরষ্পরে ভাব বিনিময় করি এবং প্রকাশ করি হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা ও আশা-হতাশার সব অভিব্যক্তি। পবিত্র কুরআনের সুরা রূমের ২২ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্যতা মহান আল্লাহ তায়ালার নিদের্শন। আমরা বাঙালি জাতি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। প্রাণের ভাষা। জন্মের পর ডান কানে আজান ও বাম কানে একামতের পরেই যে ভাষা শ্রবণ করেছি, তা হলো মায়ের ভাষা,বাংলা ভাষা। এই মায়ের ভাষার রক্ষার জন্যই আমরা লড়াই করেছি। জীবন উৎসর্গ করেছি। পৃথিবীতে এর কোনো নজির নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবী রাসুলগণকে স্ব-জাতীর ভাষায় পারদর্শি করে প্রেরণ করেছেন৷ নবী-রাসুলগণ সুন্দর-সাবলীল ও মর্মস্পর্শী ভাষার মাধ্যমে নিজ উম্মতদেরকে দ্বীনের পথে আহ্বান করতেন৷ এ প্রসঙ্গে সূরা ইবরাহিমের ৪ নং আয়াতে বর্নিত হয়েছে,আল্লাহ তায়া’লা ইরশাদ করেন, আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর সম্প্রদায়ের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি,যাতে তিনি তাদের সামনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সব সময় মাতৃভাষার গুরুত্ব দিতেন। ভিনদেশে কোন সাহাবীকে দাওয়াতি কাজে প্রেরণ করলে তাকে ওই অঞ্চলের ভাষা শিক্ষা করার নির্দেশ দিতেন। কেননা মানুষেরা স্বজাতির ভাষায় যতটুকু ইসলামের বাণী হৃদয়ঙ্গম করতে পারে তা তারা অন্য ভাষায় পারেনা। হাদীসে এসেছে— হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রাযি: তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: ‘আমার নিকট বিভিন্ন ভাষায় চিঠি-পত্র আসে; আমি চাইনা সবাই তা পড়ুক। তুমি কি হিব্রু অথবা সুরিয়ানী ভাষা শিখতে পারবে? অতঃপর আমি মাত্র সতের দিনে ঐ ভাষা শিখে ফেললাম।’ (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং-৩৭০৫৯) সুতরাং আল্লাহ তা’আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাতৃভাষার প্রতি অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এবং মাতৃভাষার প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য ও শ্রদ্ধাবোধ শিক্ষা দিয়েছেন। নবী সা: এর ভাষা জ্ঞান ছিল অত্যন্ত উঁচুমানের । তাঁর শব্দ চয়ন, ভাষাশৈলী, সাহিত্যরস ও ভাব ছিল অপূর্ব। যা সকল শ্রেণীর মানুষকেই মুগ্ধ করত। নবী সা: সব সময় বিশুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমি আরবদের মধ্যে সবচে’ বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জলভাষী।’ রাসূলের এ বাণী থেকে প্রমানিত হয়; বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল মাতৃভাষায় কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করা রাসূল (সা.)-এর আদর্শ। সব নবীগণই শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতেন। তাই নবীদের কথামালা মানুষের হৃদয় কেড়ে নিতে সক্ষম হতো। তাঁই যারা ওরাসাতুল আম্বিয়া তথা নবীগণের উত্তরসূরী হবে এবং দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে কাজ করবে— তাদের শুদ্ধ ভাষায় কথা বলতে হবে। জাতীয় ভাষায় শুদ্ধ ভাবে কথা না বলতে পারলে তাদেরক কেউ মূল্যায়ন করবে না। মাতৃভাষা মানুষের জীবনে কত যে গুরুত্বপূর্ণ! তা অনুধাবন করে পূর্ববর্তী মনীষীরা মূল্যবান উক্তি করেছেন। হুসাইন আহমদ মাদানী র. বলেছেন, “যতক্ষণ না তোমরা আপন ভাষা ও সাহিত্যের অঙ্গনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ততক্ষণ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।” সৈয়দ আবুল হাসান আলী নদভী র. বলেছেন,“কোনো দেশে দ্বীনি খেদমত করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সে দেশের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি বোধ পূর্ণ মাত্রায় অর্জন করতে হবে।” তিনি আরো বলেন,যে কোন মূল্যে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব এবং সঠিক পথ নির্দেশনা নিজেদের হাতে নিতে হবে । আর তা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ছাড়া কখনো সম্ভব নয় । দেশের ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি যদি উদাসীন ও নির্লিপ্ত থাকি তবে তা স্বাভাবিকভাবেই অনৈসলামিক শক্তির হাতে চলে যাবে । ফলে যে ভাষা ও সাহিত্য হতে পারতো ইসলাম প্রচারের কার্যকর মাধ্যম তা হয়ে দাড়াবে শয়তানের শক্তিশালী বাহন । এর পরিণতি কখানো শুভ হতে পারে না।” ইসলামের সুমহান আদর্শকে বাংলাভাষী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের বাংলা ভাষায় বুৎপত্তি অর্জনের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান ধর্মপ্রাণ; কিন্তু তাদের অনেকেই ইসলামের সঠিক জ্ঞান রাখেন না শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় ইসলাম ধর্মের সঠিক বার্তা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেয়ার অভাবে। একসময় ফার্সি ভাষাকে অমুসলিমদের ভাষা মনে করা হতো। আল্লামা জালালুদ্দিন রুমি,আল্লামা আব্দুর রহমান জামি,বিখ্যাত ইসলামি দার্শনিক শেখ সাদী রহ. প্রমূখ সে ভাষায় অসংখ্য কবিতা,সাহিত্য রচনা করে ফার্সি ভাষাকে জয় করে ইসলামের খেদমতে কাজে লাগান। এতে ইসলামের বিশাল উপকার হয়। আল্লামা ডক্টর ইকবাল রহ. উর্দু ভাষায় যে সাহিত্য রচনা করেছেন তা ইসলামী সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা ভাষায়ও আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফা সহ অনেকেই তাদের কবিতা ও সাহিত্যে ইসলামকে তুলে ধরেছেন। বর্তমানে ইসলামী ঘরনার আমরা অনেকেই লেখালেখি করছি; কিন্তু তা নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর। কবিতা, রচনা,উপন্যাস,গল্প ও সাহিত্যে ইসলামপন্থী লেখকদের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এ সুযোগে ইসলামবিরোধী বামপন্থী লেখকগণ সাহিত্যের জগতকে দখল করে নিয়েছে। তারা তাদের ভাষার মারপ্যাঁচে আমাদের মুসলিম সমাজে সেক্যুলারিজমের বীজ বপন করছে। এ জাতীয় সাহিত্য পড়ে অধিকাংশ যুবক-যুবতীরা ধর্ম বিরোধী চেতনা নিয়ে বেড়ে উঠছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে যদি ইসলামী ভাবধারার সাহিত্য দিয়ে এই শূন্যস্থান পূরণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মুসলিম জাতি হিসেবে স্বকীয়তা নিয়ে টিকে থাকা দুরূহ হবে। আমরা বাঙালী জাতি ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছি পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল। সালাম,আব্দুল জব্বার, বরকত প্রমূখ ভাষাসৈনিকেরা মাতৃভাষার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে নজির স্থাপন করে গেছে। আমাদেরকে করেছেন ধন্য। তারা সবাই মুসলমান। ভাষা শহীদদের এ আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হবে। খালি পায়ে ফুল হাতে শহীদ মিনারে গেলেই এ দায়িত্ব পালন হবে না। বরং আমাদের মাতৃভাষা যাতে বিজাতীয় সংস্কৃতি দিয়ে ভরে না যায়; সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধকে বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত করে একে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, ভাষার জন্য শাহাদাত বরণকারীরা বাংলা ভাষাকে আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছেন। এ আমানতকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করা,রক্ষণাবেক্ষন করা ও সর্বস্তরে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। কওমী মাদরাসায় পড়ুয়া বন্ধুগণ এ বিষয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করতে হবে। ভাষা ও সাহিত্যের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে হবে। আর সেজন্য আমাদের মুখের ভাষা ও কলমের লেখাকে সাহিত্যের মানে উত্তীর্ণ করতে হবে। তাহলে ভাষা ও সাহিত্যের জগতে আলেম সমাজকে কেউ আর অবজ্ঞার চোখে দেখতে পারবে না। পাকিস্তান ও হিন্দুস্তানের আলিমসমাজ বহু আগেই এ যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাই তাদের বক্তব্য সমাজকে গুরুত্বের সঙ্গে শুনতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কি আমরা এই পর্যায়ে উপনীত হতে পেরেছি? পারিনি, এর কাছাকাছিও যেতে পারেনি। তাই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে আমাদেরকে এমন মৌলিক অবদান রাখতে হবে, যাতে দেশের বিদ্বান সমাজ এক্ষেত্রে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। [লেখক: মুহাম্মদ আবু নাসের ইকবাল শিক্ষার্থী :দারুল উলুম হাটহাজারী ]

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: