শিরোনাম
আরব-ইসরাইল সম্পর্কের প্রতিবাদে বাহরাইনে বিক্ষোভ চলছেই হাটহাজারীর ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশের ডাক দিলেন ভিপি নুর হাটহাজারিতে আবারো বিক্ষোভে ছাত্ররা, সব দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভকারীদের আনাস মাদানির বহিষ্কারসহ ৫ দফা দাবিতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে আরব দেশের সম্পর্ক ফিলিস্তিনি জনগণ মেনে নেবে না সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ৫ মাস ছাড় মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করলো তুরস্ক সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিন মুক্ত হবে: হিজবুল্লাহ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
add

ইসলাম নারীকে যথার্থ মর্যাদা ও সম্মানের আসন ফিরিয়ে দিয়েছে, তার ন্যায্য অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করেছে: আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী দা.বা.

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৯
add

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী দা.বা;
এ কথা অনস্বীকার্য যে নারীর প্রতি সদয় অথবা নিষ্ঠুর আচরণে এক জাতির সাথে আরেকটি জাতির এবং এক আইনের সাথে অন্য আইনের যতই পার্থক্য ও বৈপরীত্য থাকুক না কেন, ইসলামের অভ্যুদয়ের আগে নারী কখনও কোনো সমাজে তার যথাযোগ্য সামাজিক ও আইনগত মর্যাদা লাভ করতে পারেনি। তথাকথিত সভ্যতা সমৃদ্ধ প্রাচীন গ্রিক, রোম, পারস্য, মিসরীয়, চৈনিক, হিন্দু, ইহুদি ও খ্রিস্ট সমাজের চিত্রও এক অভিন্ন। গ্রিক সমাজের নারীরা এতো ঘৃণিত ছিল যে, তাদেরকে শয়তানের নোংরা চেলামু-া মনে করা হতো। রোমান স¤্রাজ্যে পরিবার প্রধান নিজের সন্তানদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দাস দাসীদের মত বিত্রিপ্ত করে দিতে পারতো। কন্যা সন্তান হলে তো কথাই নেই।
হিন্দু ধর্ম মতে পিতা স্বামী অথবা নিজ পুত্রের কর্তৃত্ব থেকে নারীর স্বাধীন হওয়ার কোনো অধিকার নেই। এমনকি এক সময় স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর বেঁচে থাকার অধিকারও ছল না। কত নির্মম তাদের ধর্মীয় বিধান। তাকে স্বামীর সাথে একই চিতায় জীবন্ত পুড়ে মরতে হত। ১৭ শতাব্দীতে আইন করে এই বর্বর প্রথাকে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। চীনাদের তো প্রবাদই ছিল ‘তোমরা স্ত্রীর কথা শোন, তবে বিশ্বাস করো না।’। ইহুদি খ্রিস্টানরা তো রীতিমতো নারীদেরকে অভিশাপ মনে করে থাকে। কারণ তারা বিশ্বাস করে, নারী নাকি আদম (আ.)-কে বিপদগামী করেছিল। বোস্তাম নামক জনৈক খ্রিস্টান যাজক বলেছেনÑ নারী এক অনিবার্য আপদ, এক লোভনীয় বিপদ, পরিবার ও সংসারের জন্যে হুমকি, মোহনীয় মোড়কে আবৃত বিভীষিকা। আরবদের অবস্থা ছিল আরো সঙ্গীন। কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হওয়াকে তারা ভীষণ অশুভ ঘটনা বলে বিবেচনা করত। কোনো কোনো গোত্র নবজাক মেয়েকে অভিজাত্যের জন্যে কলঙ্ক ভেবে এবং কেউ খাদ্য জোগাতে পারবে না এই আশঙ্কায় জ্যান্ত মাটিতে পুঁতে ফেলত।
এ-ই যখন নারীদের অবস্থা তখন বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন ঘোষণা দিয়েছে, ‘নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।” (সুরা নিসা: ১৯)।
অন্যদিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র কণ্ঠে ধ্বনিত হল, ‘নারীগণ পুরুষদেরই সহোদরা’। (মুসনাদে আহমদ; সুনানে আবু দাউদ)
এভাবেই ইসলাম সর্বপ্রথম নারীদেরকে সমাজে স্বাধীন সুস্থ ও সন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দেয়। এমনকি সুরা নিসা নামে পবিত্র কোরআনে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরাও নাজিল করা হয়েছে নারীর যাবতীয় অধিকারের বার্তা নিয়ে। ইসলামের নবীই নারীকে একজন মা হিসেবে সম্মান ও মর্যাদার সুউচ্চ আসনে সমাসীন করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। (মুসনাদে আহমদ)
কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, যে ইসলাম নারীকে যথার্থ মর্যাদা ও সম্মানের আসন ফিরিয়ে দিয়েছে, তার ন্যায্য অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করেছে, যাবতীয় নিপীড়ন ও নির্যাতন শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পরগাম শুনিয়েছে, সেই ইসলামকে আজ নারী স্বাধীনতার অন্তরায় এবং নারী উন্নয়নের চরম প্রতিবন্ধক হিসেবে চিত্রিত করার অপপ্রয়াস চলছে। ইসলামের নীতিকে ত্রুটিপূর্ণ ও অযৌক্তিক প্রমাণ করতে ইসলামের শত্রুরা আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। ইসলামী আইনকে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক প্রমাণ করতে এদের নিরন্তর প্রচেষ্টা খুবই লক্ষ্যণীয়।নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষীরা বলে থাকে ইসলাম নারীকে পুরুষের অর্ধেক মিরাস দিয়ে অধিকার ও হক হরণ করেছে। একথাটি ইসলাম সম্পর্কে মারাত্মক মিথ্যাচার। ইসলাম নারীর অধিকার খর্ব করেনি। বরং নারীকে শুধু ন্যায্য অধিকারই নয় অগ্রাধিকার দিয়েছে। যারা বলে ইসলাম কন্যাকে পুত্রের অর্ধেক ত্যাজ্য সম্পত্তি দিয়ে নারীর অধিকার খর্ব করেছে এটা তাদের অজ্ঞাতারই প্রমাণ। তাদের দাবি অযৌক্তিক। ইসলাম নারীকে তার জীবনের সকল পর্যায়ের দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্ত রেখেছে। বিয়ের পূর্বে তার ভরণ-পোষণ, লেখা-পড়াসহ যাবতীয় খরচ তার পিতা বা অভিভাবকের ওপর বর্তায় এবং বিয়ের পর এ দায়িত্ব বর্তায় তার স্বামীর ওপর। উপরন্তু স্ত্রী বিয়ের পর তার স্বামীর নিকট থেকে দেন মোহর লাভ করে থাকে। অথচ পুরুষের ক্ষেত্রে এমন হয় না। চিন্তা করে দেখলে অবশ্যই বলতে হয়, ইসলাম নারীকে ন্যায্য অধিকার দিয়েছে। নারী অধিকার খর্ব করেনি।
বিষয়টাকে উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। মৃত্যুকালে সম্পদ হিসেবে রেখে যায় তিনলক্ষ টাকা। ইসলামী আইনের নিরীখে ছেলে দুই লক্ষ এবং মেয়ে এক লক্ষ টাকা পেলো। ছেলে বিয়ে করে স্ত্রীর মোহর আদায় করতে হল। স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও সন্তানসন্ততি হলে তাদেরও লালন-পালনের দায়িত্ব এবং তার অধীনস্থ ভাই বোন ও মায়ের ব্যয়ভার গ্রহণ করতে হল। ছেলে বাবার মিরাসের ২ লক্ষ টাকা পেয়ে তিন খাতে ব্যয় করতে হল। পক্ষান্তরে মেয়ে বাবার মিরাস এক লক্ষ টাকা পেল। এরপর তাকে বিয়ে দিলে স্বামীর কাছ থেকে মোহরও পেল। নারীর ব্যয়ের কোনো খাত না থাকায় গোটা টাকা জমা রয়ে গেল। কারণ তার ভরণ-পোষণসহ ছেলে মেয়েদের সমস্ত দায়িত্ব স্বামীর ওপর। তার এ ব্যাপারে কোনো জিম্মাদারিই নেই। তাহলে কন্যা বাবার সম্পত্তি পুত্রের অর্ধেক পেয়ে কম পেলো কীভাবে? সুতরাং এতে বোঝা যায় যে ইসলাম নারীর পূর্ণাঙ্গ জীবন এবং সামগ্রিক উপকারের দিকে লক্ষ রেখে উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন করেছে।
যারা নারীদের উত্তরাধিকার সম্পদে পুরুষের সমান অংশ দিতে চায় তাদের যুক্তি হল ছেলে মেয়ে একই বাবার সন্তান। ছেলের যেমন উন্নত জীবন যাপনের জন্যে গাড়ি বাড়ি ইত্যাদির প্রয়োজন ঠিক মেয়েরও এসব প্রয়োজন। সুতরাং ছেলে বাবার সম্পত্তির দ্বিগুণ পেলে মেয়ে অর্ধেক পাবে কেন? এটা নারীর প্রতি অবশ্যই বৈষম্যমূলক আচরণ এবং নারীর প্রতি ইসলামের অবিচার। কাজেই কোরআনে সুরা নিসার ১১ নং আয়াতের হুকুম এখন আর চলতে পারে না। এর সংশোধন প্রয়োজন। নাউজুবিল্লাহ! এমন যুক্তি তারাই প্রদর্শন করতে পারে যারা শরিয়তের বিধান সম্পর্কে একেবারই অজ্ঞ। কারণ শরিয়তের বিধান হলো, যখন কারো ঘরে কোনো ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে তখন সে ছেলেটি শুধু সাবালক হওয়া পর্যন্ত তার লালন পালন করবে। সাবালক হওয়ার পরও যদি পিতার তার ব্যয়ভার গ্রহণ করে থাকেন, এটা পিতার পক্ষ হতে অনুগ্রহ মাত্র। পক্ষান্তরে যখন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে ওই কন্যা সন্তানের লালন-পালন থেকে নিয়ে বিয়ে পর্যন্ত সকল ব্যয়ভার বহন করা পিতার ওপর বাধ্যতামূলক। নাবালিকা সাবালিকা উভয়ের ব্যাপারে একই বিধান। বিয়ের পর স্বামীর ওপর তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব। আর সন্তান ছেলে হলে সাবালক হওয়ার পর থেকে নিয়ে বিয়ে করা, বৃদ্ধ পিতা মাতার দেখাশোনা করা, এবং আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর নেয়া তার দায়িত্ব। মেয়েদের ঘাড়ে এসব দায়িত্বের বোঝা নেই। তাহলে বাবার নিকট বেশি অধিকার পেল কে? ইসলাম কন্যা সন্তানের ওপর অবিচার করল কোথায়? ইসলাম তাকে সামগ্রিকভাবে অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। ইসলাম কত সুন্দরভাবে নারীদের জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছে। তাদের পূর্ণ জীবনের দায়দায়িত্ব পুরুষের উপর অর্পণ করেছে। সুতরাং যারা বলে ইসলাম নারীদের অধিকার দেয়নি, নারীদের হক থেকে বঞ্চিত করেছে, তারা মিথ্যা বলছে। তাদের কথা ঠিক নয়। সকলের প্রতি আমার আহ্বান! আপনারা ইসলামের বিধিবিধান সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে তারপর ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।
সহকারী পরিচালক: দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
মহাসচিব: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: