শিরোনাম
গরিবদের আগে করোনার টিকা দিয়ে সরকার দেখবে মানুষ বাঁচে না মরে: রিজভী সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো হিজামা হেল্পলাইন কর্তৃক আয়োজিত ফায়ার কাপিং কর্মশালা মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি কুচক্রি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে মাদরাসায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে : আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী  ফটিকছড়িতে কওমি মাদ্রাসায় মাজারপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত পুলিশকে গুণ্ডা ও মাস্তানের ভূমিকায় দেখতে চাই না, এসপিকে বরখাস্ত করুন : ইসলামাবাদী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হেফাজত ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজত আল্লামা শফীর মৃত্যুকে ইস্যু করে বরেণ্য আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা: নিন্দা জানিয়ে শীর্ষ ২৮ উলামা-মাশায়েখের বিবৃতি
বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
add

একজন নিভৃতচারী আলেমের বর্ণাঢ্য জীবনের অপার দীনি খেদমত

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২০
add

ইউছুফ আজীম চৌধুরী

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খ্যাতনামা জমিদার জান আলী চৌধুরীর বংশে ইংরেজী ভাষাজ্ঞ আলেম পরিবারে জন্ম নেয়া এক বিরল প্রতিভার নাম মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমি। সাদা-সরল মনের অথচ শরীয়তের গভীর জ্ঞানের অধিকারী নিরহঙ্কার, বিনয়ী ও প্রচার বিমুখ একজন মানুষ মাওলানা কাছেমী।
বক্ষমান প্রবিন্ধে নাজিরহাট মাদরাসা কেন্দ্রিক তাঁর জীবনের খেদমতের ঈষৎ বর্ণনা হল।
১৯৮০ সালে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে দাওরায়ে হাদীস ও ইফতা কৃতিত্বের সাথে সমাপ্ত করে প্রথমে খুলনার কড়িয়াতে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। অতঃপর চট্টগ্রাম লালখান বাজার মাদরাসায় শিক্ষকতাকালীন ১৪০৪ হিজরীর শাবান মাসে মরহুম মুহতামিম আল্লামা শাহ শামসুদ্দিন সাহেব রহ. পরম আগ্রহের সাথে তাঁকে নাজিরহাট মাদরাসায় একজন মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ দান করেন৷
সে বছর থেকেই তিনি নাসায়ী শরিফের দরস শুরু করেন৷ ক্রমান্বয়ে আবূ দাউদ-মুসলিম শরীফের দরস প্রদান করেন। দীর্ঘ ১৮ বছর তাঁর সফল, প্রাণবন্ত দরস যখন আরো পরিপক্বতা লাভ করে তখন ২০০৩ সালে তাঁকে হাদীস জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, এবং কওমী মাদরাসার দরসে নিজামীর সর্বোচ্চ কিতাব সহিহ বুখারী শরীফ (সানী) প্রদান করা হয়৷ হাদিসের কিতাব ছাড়াও দরসে নেজামীর মৌলিক ও জটিল কিতাবগুলোর অধিকাংশই তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে সফলভাবে পাঠদান করেন।
নিয়মিত দরস-তাদরীসের পাশাপাশি তাঁর চতুর্মুখী যোগ্যতা দৃষ্ট হলে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত জামিয়ার মুখপাত্র মাসিক দাওয়াতুল হকের সম্পাদক হিসেবে তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয়।
তৎকালীন মুহতামিম আল্লামা হাফেজ শামসুদ্দীন সাহেব রহ.’র কাছে তিনি সবিনয়ে পরামর্শ রাখলেন ছাত্রদের উন্নতির জন্য মাদরাসায় একটি দারুল মোতালায়া বা পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তাঁর পরামর্শ বিবেচনায় এনে আল্লামা শাহ শামসুদ্দিন সাহেব রহ. একটি মনোরম পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। যার জন্য তিনি নিজে সৌদিয়া, মিশর, বৈরুত, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কিতাব সংগ্রহ করে পাঠাগারটিকে সমৃদ্ধ করে তোলেন।
২০০১ সালে মাদরাসায় দারুল ইফতা তথা ফতোয়া বিভাগ চালু হলে তাঁকে প্রধান মুফতী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
তা’লিম তাদরীসের পাশাপাশি মাদরাসার অর্থনৈতিক শক্ত ভীত তৈরী করার জন্য জন্যে তিনি সৌদিয়া, দুবাই, কাতার, আরব আমিরাত, মিশর, সিরিয়া এবং লন্ডনসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন।
মাদরাসার সফল মুহতামিম আল্লামা শাহ শামসুদ্দিন সাহেব রহ. এর প্রায় ২০ বছরের বিভিন্ন দেশের সফরসঙ্গী হিসাবে অত্যন্ত আস্থাভাজন, নিরলস ও দক্ষ-কর্মঠ হিসাবে নিজেকে পেশ করতে সক্ষম হন।
মাদরাসার প্রতি তাঁর অবদান ও অক্লান্ত পরিশ্রম ও যোগ্যতা দেখে মজলিসে শূরা ২০০৩ সালে তাঁকে নায়েবে মুহতামিমের দায়িত্ব অর্পণ করে। তাঁর বিশ্বস্ততা ও যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে মজলিসে শূরা তাঁকে ইন্টার্নাল অডিটর হিসেবেও নিয়োগ দান করেন। এছাড়াও শূরার মাধ্যমে তিনি মজলিসে আমেলার তথা কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মজলিসে এলমীর তথা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির একজন সদস্য। মাদরাসার সর্বোচ্চ পরিচালনা পরিষদ মজলিসে শূরার তিনি অন্যতম রোকন। মাদরাসার তিনি সদরে মুদাররেস বা প্রধান শিক্ষক।
এছাড়াও অদ্যাবধি তিনি জামিয়ার জামে মসজিদের খতিব।  ইতোপূর্বে নাজিরহাট মাদরাসায় একজন ব্যক্তি হিসেবে এতগুলো দায়িত্ব আর কারো উপর অর্পিত হয়নি।

মাদরাসার শিক্ষা, অবকাঠামো ও আর্থিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আল্লামা শাহ শামসুদ্দিন সাহেব রহ এর পরেই তার অবদান স্বর্ণাক্ষরে সমোচ্চারিত। মাদরাসার একজন সফল উস্তাজ ও খাদেমের পাশাপাশি তিনি একজন লেখক, আলোচক এবং গবেষক আলেম। দেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক এবং বিভিন্ন স্মরণিকায় তাঁর অমর প্রবন্ধাবলী সে স্বাক্ষর রাখছে। উপমহাদেশের ওলামাগণের অবদান শীর্ষক তাঁর একখানা সাড়াজাগানো ইতিহাসমূলক প্রবন্ধ রয়েছে।
বর্তমান তিনি নাজিরহাট মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম হিসেবে আছেন।
একটি মহল হিংসার বশীভূত হয়ে তাঁর এ সমস্ত অবদানকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণ করে তাঁকে মানসিক হেনস্তা করার কসরত চালাচ্ছে। আমরা এই নিভৃতচারী আলেমের দীর্ঘায়ু ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করি।

নিম্নে মাদরাসার তালিমাতের রেজিস্ট্রারি খাতা থেকে তার পাঠদান কৃত কিতাব সমুহের তালিকা প্রদত্ত হল।


Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: