শিরোনাম
জুমার মিম্বার থেকে বাবুনগরী : আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছেন, তবে ছেড়ে দেননি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মসজিদ-মাদ্রাসা উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে মুফতি আজম আবদুচ্ছালাম চাটগামীর খোলা চিঠি রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো আলেম, দুর্ভোগে পরিবার মসজিদ লক করার ইখতিয়ার কারো নেই : মুফতি সাখাওয়াত চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে রোজার অতুলনীয় উপকার, বিবিসির প্রতিবেদন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে, কাল রোজা ইসলামাবাদীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে : আমীরে হেফাজত  আল্লামা শফীর ইনতিকাল স্বাভাবিক, পিবিআইয়ের রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার : হেফাজত আমির
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন
add

করোনায় অবরুদ্ধ বিশ্ব : বিপদগ্রস্ত অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান করে ইসলাম

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০
add

আবু নাসের ইকবাল


অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই প্রকাশ পায় মানবতা। যে মানুষ অন্যের চোখের পানি মুছে দেয়, যে মানুষ অসহায়ের পাশে দাঁড়ায়, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে; সেই প্রকৃত মানুষ। সভ্য পৃথিবীতে মানবতার সংজ্ঞা আজ চরম বিকৃতির শিকার। পৃথিবীকে যে ইসলাম সভ্যতার শিক্ষা দিয়েছে সে ইসলামের চেয়ে উত্তমরূপে মানবতার শিক্ষা আর কে দিতে পারে?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা উত্তম জাতি, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে আর মন্দ কাজে বাঁধা দিবে।’ ( সুরা আলে ইমরান : ১১০)
বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো মানবতার সেবা। ইসলাম মানুষের সঙ্গে মানুষের ভালোবাসা এবং পরষ্পরে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই।’  (সুরা হুজুরাত: ১০)
তাই এক ভাই তার অপর ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। এটাই শিক্ষা দেয় ইসলাম। পরস্পর দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেয়াই ইসলামের শিক্ষা। এ শিক্ষার সর্বপ্রথম প্রায়োগিক রূপ দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম (রাজি.)। মক্কায় নির্যাতিত হয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রাজি.) যখন মদিনায় হিজরত করেছিলেন, তখন মদিনায় আনসারগণ গভীর ভালোবাসা দিয়ে তাদের বরণ করে নিয়েছিলেন। এমনকি যার দুটি ঘর ছিল, তিনি একটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। যার দুইজন স্ত্রী ছিল, তিনি একজন ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সুবহানাল্লাহ! কত বড় ত্যাগ! কত বড় কুরবানী! পৃথিবীতে কি খুঁজে পাওয়া যাবে এর নজীর! নিজের অর্ধেক সম্পদ দিয়ে দিয়েছেন। প্রিয়তমা স্ত্রীকেও ছেড়ে দিয়েছেন; না, নিজের রক্ত সম্পর্কের কোনো আত্মীয়ের জন্য নয়; বরং দীনের খাতিরে, মানবতার খাতিরে।

বর্তমান সময়ে ‘করোনা’ নামে যে মহামারী বিশ্বে  ছড়িয়ে পড়েছে তা থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, পাশাপাশি আমাদের আশপাশের যারা দিনমজুর ‘দিন এনে দিন খায়’ এমন দরিদ্র, অসহায়দের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। যাতে তারা অনাহারে না থাকে। ইসলাম মানুষকে সর্বোচ্চ মানবিকতা, পরহিতৈষণা, সহমর্মিতা ও মহানুভবতার শিক্ষা দিয়েছে।

অনাহারীর কষ্টের ভাগিদার হতে এবং জনমদুখী বান্দার দুঃখে সমব্যথী হতে আল্লাহ তা‘আলা রমযানের সিয়াম ফরয করেছেন। দুঃখীর অভাব মোচনে যাকাত ফরয ও সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। একই উদ্দেশ্যে সালাত, সিয়াম ইত্যাদির ফিদইয়া ও লে‘আনের বিধান এবং কসম ইত্যাদির কাফফার বিধান প্রবর্তন করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা দান-সদকা ও অন্যের জন্য খরচে উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। কয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি—
ক) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ২৬১)

খ) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘নিশ্চয় দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে উত্তম করয দেয়, তাদের জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সুরা হাদিদ: ১৮)

গ) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক।’ (সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত : ১৯)

এ ধরনের আরো অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা মানব সেবা ও সমাজ কল্যাণের নির্দেশ ও উৎসাহ দিয়েছেন। তেমনি মানবমুক্তি ও সমাজকল্যাণের মহান প্রতিভূ মুহাম্মদে আরবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনভর এ শিক্ষা প্রচার করেছেন। তিনি মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের কাজ যেমনিভাবে নিজে করেছেন, তেমনিভাবে নানা উপলক্ষ্যে নানাভাবে এর প্রতি গুরুত্বারোপ করে অন্যদেরকে উৎসাহিত করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য।’ (বুখারী : ৬০০৭; মুসলিম : ৭৬৫৯]

অন্য হাদিসে বলেন: ‘অসুস্থ লোকের সেবা করো, ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও এবং বন্দিকে মুক্ত করো।’ (বুখারী : ৫৬৪৯)

অন্য আরো একটি হাদিসে রাসুল বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। (সহিহ বোখারি)
অন্য হাদিসে বলেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইকে সাহায্য করতে থাকে ততক্ষণ আল্লাহ তাকে সাহায্য করতে থাকেন। (সহীহ মুসলিম)

এই সব আয়াত ও হাদিসকে সামনে রেখে কোনো মুসলিমেরই অভাবী, অসহায় ও নিঃস্ব মানুষদের সেবা ও সহযোগিতা থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়। সামনে করোনা মহামারীর কারণে আমরা  যে দুর্যোগ ও দূরবস্থার সম্মুখীন হতে চলেছি, এ সময় বিত্তশালীরা যদি অভাবী মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে না আসে; তাহলে তারা ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখে নিপতিত হবে।

তাই আসুন! পরস্পরের প্রতি সেবা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সম্মিলিতভাবে করোনা প্রতিরোধে কাজ করি। দেশ ও দেশের মানুষদেরকে ভাল রাখি। সবাই সুস্থ ও নিরাপদ থাকি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন!


শিক্ষার্থী: হাটহাজারী মাদ্রাসা। 

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: