শিরোনাম
আরব-ইসরাইল সম্পর্কের প্রতিবাদে বাহরাইনে বিক্ষোভ চলছেই হাটহাজারীর ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশের ডাক দিলেন ভিপি নুর হাটহাজারিতে আবারো বিক্ষোভে ছাত্ররা, সব দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভকারীদের আনাস মাদানির বহিষ্কারসহ ৫ দফা দাবিতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে আরব দেশের সম্পর্ক ফিলিস্তিনি জনগণ মেনে নেবে না সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ৫ মাস ছাড় মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করলো তুরস্ক সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিন মুক্ত হবে: হিজবুল্লাহ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৪ অপরাহ্ন
add

কাকে খুশি করতে ভিপি নুরের ওপর হামলা?

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
add

ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ


আমাদের সাথে ভিপি নুরের পরিচয়টা খুব প্রাচীন না হলেও এখনকার অধিক আলোচিত নাম ভিপি নুর।  ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে তিনি আলোচনায় আসেন এবং  ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ২০১৮ সনে কোটা বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই মূলত আমরা নুরুকে চিনি। পর্যায়ক্রমে এখন সর্বসাধারণের কাছে একটি বিপ্লবী নাম।

নুরের সাথে তখন থেকেই আলোচিত নাম মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এ মঞ্চ কারা প্রতিষ্ঠিত করেছে, কেন প্রতিষ্ঠা করল এসব আর গোপন কিছু নয়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামে এ সংগঠনটি কোটা আন্দোলনকে প্রতিহত করতে গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তাদের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বারবার সমালোচনার দ্বার খুলেছে। একাধিকবার কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করেছে তারা। বিশেষ করে তাদের টার্গেট ভিপি নুর। এ সংগঠনের কাজই যেন ভিপি নুরকে আক্রমণ করা । তার কণ্ঠ স্তব্ধ করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি, সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণ করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ আবার সামনে এসেছে। মঞ্চের হামলায় ভিপি নুরুলসহ অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন অন্তত চারজন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ অপকর্ম করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নীরব থাকে কেন? সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এর মূল হেতু কী? মঞ্চটি তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং সাবেক সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে সদস্যসচিব করার মাধ্যমেই। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ পরবর্তী সময়ে দুভাগ হয়। একভাগ ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সরকারেরই ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কোনো সংগঠন  হলেও ভিপি নুর ‍যদি কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং সরকারের সমালোচনা করে কোনো অপরাধ করে থাকে তাহলে সেটা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা দেখবে। আইন আছে, প্রশাসন আছে তারা দেখবে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নামে ছাত্রলীগকে ‍নুরের বিচার করা এ দায়িত্ব কে দিল?

আরো একটি কথা হচ্ছে, নুর বা তার সঙ্গীরা সরকারের বিরোধিতা করেছে। ভারতের সাম্প্রদায়িকতার সমালোচনা করেছে। এখানে গোলাম রব্বানীর ক্ষতি কোথায়? তার কেন এত রাগ উঠল? এখানে গোলাম রব্বানী বা মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কোনো সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে সরকারের। আর সেই সরকারকে খুশি করতেই তার সন্তানদের আগ্রাসী ভূমিকা। ভারতের সাথে সরকারের সুসম্পর্ক। সে সুসম্পর্কের বিরুদ্ধে মন্তব্যের কারণে আমরা মেধাবী আবরারকে হারিয়েছি। হয়ত নুরকেও হারাব। উপাস্যকে খুশি করতে পুজারীরা যখন তখন যাকে তাকে বলি দিচ্ছে। আজকে নুরকে কোরবানি দিচ্ছে কাল পরশু আপনাকে আমাকে দেবে না এর গ্যারান্টি কী?

এ দেশে এখন কথা বলা অপরাধ। ভিন্নমত চর্চা জীবনের জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। ইনশাআল্লাহ ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ জাগলে জেগে থাকবে বাংলাদেশ। ৭১ এর তারুণ্য আমাদের দেশ উপহার দিয়েছে। ১৯ এর তারুণ্য সে দেশ রক্ষ করবে।

সম্পাদক: কওমি ভিশন

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: