শিরোনাম
আরব-ইসরাইল সম্পর্কের প্রতিবাদে বাহরাইনে বিক্ষোভ চলছেই হাটহাজারীর ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশের ডাক দিলেন ভিপি নুর হাটহাজারিতে আবারো বিক্ষোভে ছাত্ররা, সব দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভকারীদের আনাস মাদানির বহিষ্কারসহ ৫ দফা দাবিতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে আরব দেশের সম্পর্ক ফিলিস্তিনি জনগণ মেনে নেবে না সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ৫ মাস ছাড় মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করলো তুরস্ক সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিন মুক্ত হবে: হিজবুল্লাহ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
add

কোরবানির দর্শন ও তাকবিরে তাশরিকের তাৎপর্য

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২০
add

মুফতি হামেদ বিন ফরিদ


কুরবানী একটি মহান তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত ও ইসলাম ধর্মের অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ তা’য়ালার নৈটক্যলাভের বিশেষ মাধ্যম। প্রত্যেক ধর্মেই প্রভুর নৈটক্য হাসিলের ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম রয়েছে। যেমন – পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ বলেন, ” আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।” সূরা হজ্জ-৩৪
আমাদের ইসলাম ধর্মে আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের বিভিন্ন পন্থা থেকে উল্লেখযোগ্য হল, হিজরীসনের জিলহজ্জ মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কিছু পশু যবেহ দেয়া। একে কুরবানি বলা হয়। এই কুরবানি একটি নির্ধারিত সময়ের ইবাদত। ঐ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে এটি আর ইবাদত থাকে না। তাই বলা যায়, জিলহজ্জ মাসের দশম তারিখ থেকে নিয়ে দ্বাদশ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে কেউ কুরবানির নিয়্যতে পশু যবেহ করলে তা একটি ইবাদত বলে গণ্য হবে।
উক্ত দিন ভিন্ন অন্য কোন দিনে হাজার পশু জবাই দিলেও তাকে কুরবানি বলা যাবেনা। এতে কুরবানির সওয়াবও পাওয়া যাবেনা এবং এর কোন মূল্য- মর্যাদাও আল্লাহর কাছে নেই। কেননা, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর নির্দেশিত পন্থায় নির্ধারিত পশু তাঁর নামে উৎসর্গ করার নামই কুরবানি। একদিকে কুরবানির পশুর গলায় ছুরি চলছে, অপরদিকে কুরবানির ইবাদত পরিপূর্ণ হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়ে যাচ্ছে।
মূলত সওয়াব আর পুণ্য লাভ হয় আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাত পালনের মাধ্যমেই। যে আমল বা আমলের পদ্ধতি আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাতশূন্য তার কোন মূল্যই ইসলামে নেই। তার মাঝে কোন সওয়াবও নেই। কোন আমলই সত্ত্বাগতভাবে নিজে নিজেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং, কোন আমল তখনই ইবাদতে রূপ নেয়, প্রতিদানযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, যখন সেই আমলের সাথে আল্লাহর আদেশ ও রাসূলের নির্দেশের পরশ লাগে। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাত কোন কাজের ব্যাপারে পাওয়া না গেলে সেটি আর ইবাদত থাকেনা। তার কোন মূল্যও ইসলামে থাকেনা।
মোদ্দাকথা, আমলের সওয়াব মিলবে আল্লাহর নির্দেশিত পথে, রাসূলের দেখানো নিয়মে নির্ধারিত সময় আর দিনে যদি আমলটি সম্পাদিত হয়। অন্যথায় আমলটির কোন কদরই আর বাকি থাকেনা।
আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, জিলহজ্জের ১০,১০,১২ তারিখের যে কোনদিন কুরবানির পশুর গলায় ছুরি চালানো সওয়াব আর পুণ্যের কাজ।এজন্য এর সুনির্ধারিত নিয়মকানূন আছে, যার অন্যথা হলে তা আর ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে এই দিনসমূহে কুরবানি দেয়াটা আল্লাহর কাছে এতই পছন্দনীয় যে, কুরবানি ভিন্ন অন্য কোন আমল এই দিনে তাঁর কাছে পছন্দনীয় নয়। হাদীস শরিফে এসেছে, “আইশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট সবচাইতে পছন্দনীয় হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর।(জামে’ আত-তিরমিজি, ১৪৯৩)
আবার এই একই কাজ কেউ যদি কুরবানির সময় পেরোনোর পরে করে,এর কোন ফলাফল পাওয়া যায়না। এতে প্রতীয়মান হয়, আল্লাহর আদেশ আর রাসূলের সুন্নাতের অনুসরণেই সওয়াব আর কল্যাণ নিহিত। এর বহির্ভূত হলেই তা বিদ’আতের পর্যায়ে চলে যায়। কুরবানীর ন্যায় কুরবানীর দিনসমূহ আরো একটি নির্ধারিত ইবাদত হলো তাকবীরে তাশরীক। নিচে তাকবীরে তাশরীক সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।
তাকবীরে তাশরীক কি?
জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ ফজর নামাজের পর থেকে নিয়ে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত সময়কে তাশরীকের দিন বলে। এবং এই সময়ে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর অন্তত একবার ” আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ” এই তাকবিরটি পড়া ওয়াজিব। এটাকে তাকবীরে তাশরীক বলে। ( হেদায়া, ১/২৭৫ )
তাকবীরে তাশরীকের পটভূমি ঃ বোখারী শরিফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ বলেনঃ ” যখন হযরত ইব্রাহিম আ. স্বীয় পুত্র ইসমাঈলকে জবেহের উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি রাখলেন, এদিকে আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশে হযরত জিব্রাঈল আ. আসমান থেকে একটি দুম্বা নিয়ে দুনিয়াতে আগমন করছিলেন। কিন্তু জিব্রাঈল আ. এর আশংকা ছিল- তিনি দুনিয়াতে পৌঁছার পূর্বেই ইব্রাহিম আ. জবাই পর্ব সমাপ্ত করে বসবেন। ফলে তিনি আসমান থেকে উঁচু আওয়াজে বলে উঠলেন : “আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার”।  ইব্রাহিম আ. আওয়াজ শুনে আসমানের দিকে নজর ফিরাতেই দেখতে পেলেন জিব্রাঈল আ. একটি দুম্বা নিয়ে আগমন করছেন। ফলে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন: ” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর”। পিতার কন্ঠে এই কালিমা শুনতেই ইসমাঈল আ. উচ্চারণ করলেন : “আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।  একজন ফিরিশতা আর দু’জন প্রিয় নবীর এ বাক্যমালা আল্লাহ তা’য়ালার খুব পছন্দ হয়। তাই কিয়ামত পর্যন্ত এই বাক্যমালাকে আইয়ামে তাশরীকে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পড়াকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। ( ফাতাওয়ায়ে শামী: ২/১৭৮, ইনায়া শরহুল হিদায়া: ১/৪৬৪)
তাকবীরে তাশরীকের ফজিলত
‘যেন তারা নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। ” সূরা হজ্জ-২৮
বিখ্যাত সাহাবি মুফাসসির ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন: واذكروا الله فى أيام معلومات (সুরা বাকার-২/২০৩) দ্বারা জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন বুঝায় এবং والأيام المعدودات দ্বারা আইয়ামে তাশরীক বুঝায়। ( বুখারী, অধ্যায় দুই ঈদ)  এখানে নির্দিষ্ট দিনসমূহ দ্বারা আইয়ামে তাশরীক উদ্দেশ্যে এবং জিকর দ্বারা তাকবীরে তাশরীক উদ্দেশ্য। ( ইবনে কাসীর)
ইমাম বুখারী রহ. “তাশরীকের দিনগুলোতে আমলের গুরত্ব ” শিরোনামে একটি অধ্যায় এনে তাতে একটি হাদিস উল্লেখ করেন।
 “عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامِ أَفْضَلَ مِنها فِي هَذِهِ ‏”‏‏.‏ قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ ‏”‏ وَلاَ الْجِهَادُ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَىْءٍ ‏”‏‏.‏
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ  এ দিনগুলিতে ( তাকবীরে তাশরীক) ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৬৯)
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে বাত্তাল রহ. বলেন: “হাদীসে আইয়াম দ্বারা আইয়ামে তাশরীক আর আমল দ্বারা তাকবীরে তাশরীক উদ্দেশ্য।
কতিপয় মাসায়েল
## তাশরীকের দিনসমূহে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর পুরুষদের উপর উচ্চস্বরে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। আর মহিলারা নীচুস্বরে পড়বে যাতে নিজে শুনে। ( শামী-২/১৭৮)
ফরজ জামাতের সাথে পড়া হোক বা একাকী, ওয়াক্তের মধ্যে পড়া হোক বা ক্বাজা, নামাজী ব্যক্তি মুকীম হোক বা মুসাফির, শহরের বাসিন্দা হোক বা গ্রামের সকলের উপর ফরজ নামাজের পর একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব। (দুররে মুখতার-২/১৮০)
ফরজ নামাজের পর তাকবীর বলতে ভুলে গেলে, স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তাকবীর পড়ে নিবে। তবে হ্যাঁ, নামাজের বিপরীত কোনো কাজে লিপ্ত হয়ে গেলে, যেমন- কথা বলা, নামাজের স্থান হতে উঠে পড়া ইত্যাদি হলে তাকবীর বলতে হবেনা। ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করবে। ( শামী-৬/১৭৯)


মুহাদ্দিস, ইমাম মুসলিম রহ. ইসলামিক সেন্টার, কক্সবাজার। 
খতিব, পশ্চিম মেরংলোয়া, মুন্সিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, রামু, কক্সবাজার।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: