শিরোনাম
ম্যাক্রোঁর ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ভারতজুড়ে হ্যাশট্যাগ নাজিরহাট মাদ্রাসার মুহতামিম নির্ধারণের লক্ষ্যে মজলিসে শূরার বৈঠক আজ আগামী শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী ফ্রান্সের ম্যাগাজিন ‘শার্লি হেবদো’র ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালিয়ে ডাউন করেছে বাংলাদেশি হ্যাকাররা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবার আগে জুনাইদের বুক থাকবে : আল্লামা বাবুনগরী পেশোয়ারের মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল্লামা তাকী উসমানী ফ্রান্সে মহানবীর অবমাননার প্রতিবাদে জামিয়া বাবুনগরের মসজিদে প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের তাগুতি শক্তি অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে : খেলাফতে যুব মজলিস চট্টগ্রাম পাকিস্তানের পেশোয়ারে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা; নিহত ৭, আহত ৭০ এর অধিক ‘ফরাসি পণ্য বয়কট করুন’: তুর্কি জনগণের প্রতি এরদোগানের আহ্বান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
add

জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে?

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
add

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পর বিশ্বের অনেকে এমন প্রশ্ন করেন, এই প্রতিষ্ঠানটির কি আর প্রয়োজন আছে? এটি সাধারণ কারও কথা নয়, খোদ জাতিসংঘের অ্যামনেস্টি ইন্টারনাশনাল অফিসের প্রধান শেরিন টেডরোসের কথা।

তিনি বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে বিশ্বের অনেকেই প্রশ্ন করছেন ৭৫ বছরে এসে এখনও জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা আছে কিনা।’

বিগত এক দশক ধরেই যে বিষয়টি বারবার সবার সামনে আসছে তা হল ‘আর ক্ষমতার দাপটে জাতিসংঘকে তার গঠনতন্ত্র থেকে বিচ্যুত করা, যার যার স্বার্থে ব্যবহার কর।’ এএফপি, গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।

বস্তুত, জতিসংঘের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, বা যে পরিস্থিতিতে ৭৫ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল যে প্রাসঙ্গিকতা এখনও রয়েছে কিনা- এমন প্রশ্ন অনেক সময় অনেকে তুলে থাকেন।

গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে জাতিসংঘের ব্যর্থতা, এমনকি গণমানুষের কল্যাণের চেয়ে প্রভাবশালী কিছু দেশের স্বার্থরক্ষা বা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো প্রয়োগ করে মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর ইস্যু আটকে দেয়ার কারণে জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তার কথা অনেক সময় উঠেছে। আছে জাতিসংঘে সংস্কার ও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য বাড়ানোর প্রস্তাবও।

জাতিসংঘের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে এর সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবারও ব্যতিক্রম নয়। তবে ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই আয়োজনটি হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠক তথা বার্ষিক সম্মেলনটি হতে যাচ্ছে অনলাইন প্লাটফর্মে। অনলাইন ভিডিও মিটিং প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এ অধিবেশন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈঠকটি জুম মিটিংয়ের সবচেয়ে বাজে মিটিংয়ের চেয়েও খারাপ হতে যাচ্ছে। কারণ এটি আর দশটি জুম মিটিংয়ের মতো নয়। এতে আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা বক্তব্য পরিবেশন করা হবে। সাধারণ জুম মিটিংয়ের মতো আলোচনার সেশন থাকবে না।

সোমবারের মধ্যে তারা নিজেদের বক্তব্য পাঠিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য অনলাইনে বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বছরের মতো ডেলিগেশন পাঠানোর সুযোগও আছে। প্রতিটি দেশ একজন মাস্ক পরিহিত প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার বিশ্বকে ‘এক হওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে, জাতিসংঘের ৭৫তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার সকাল বেলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য বাজানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে অধিবেশন।

তারপরে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের বক্তব্য শোনানো হবে। এরপর আসবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর পালা। তার আধাঘণ্টা পর বক্তব্য দেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

তার মানে অধিবেশনের সপ্তাহটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রতাপশালী শাসকদের নিজস্ব স্টাইলের প্যারেড। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টেনিও গুতেরেস অবশ্য আশা করছেন, ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হতে যাচ্ছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো কর্তৃক জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা মূলনীতিগুলো পূরণের পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেয়ার একটি সুযোগ।

কারণ, আধুনিক ইতিহাসে অনেক বছর পর আমরা এমন একটি বছর পেয়েছি যখন বিশ্বের বড় বড় শক্তি সামরিকভাবে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই।

ভার্চুয়াল এ জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন যৌথভাবে উৎপাদনের প্রচেষ্টা- কোভ্যাক্সের ঘোষণার মুহূর্ত আসতে পারে বলে আশা করছেন গুতেরেস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়।

তারপর এই প্রথম কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ১৯৩ সদস্য দেশে সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অস্থির অবস্থা এবং জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাধারী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মুখোমুখি অবস্থানের গোলযোগপূর্ণ অবস্থায় হচ্ছে ৭৫তম বর্ষপূর্তি ও বার্ষিক অধিবেশন। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, কোনো দেশের অধিকার নেই বৈশ্বিক বিষয়াবলীতে কর্তৃত্ব করার, অন্যদের ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার বা সব উন্নয়ন সুবিধা নিজে ভোগ করা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা বলেন, আমাদের যৌথ বাসস্থান সমস্যায় রয়েছে। আমাদের মূলনীতিগুলো ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, পৃথিবীর ৭শ’ কোটি মানুষের ভাগ্য পাঁচটি দেশের দয়ার ওপর নির্ভরশীল হওয়া স্বচ্ছ কোনো বিষয় নয়, এটি টেকসইও নয়। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেছেন, ‘বিভিন্ন রাষ্ট্রের নিজস্বার্থ চরিতার্থ নীতির কারণে অনেক সময়ই জাতিসংঘকে তার আদর্শ থেকে সরে আসতে হয়। আমরা সবাই মিলে একটি বিশ্ব’।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের ‘ক্রমবর্ধমান বিভেদ’ আরও উসকে দিচ্ছে। সূত্র: যুগান্তর

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: