শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে সৌদিআরব অবশেষে ৩ অক্টোবর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বেফাকের বিতর্কিত মহাসচিব আবদুল কুদ্দুস ৭১ টিভিতে আমাকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে; ক্ষমা না চাইলে মামলা করব : কারী রিজওয়ান আরমান জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার সমস্ত শয়তানি কার্যক্রমের উৎস হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা: হুথি আনসারুল্লাহ হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীকে কটূক্তি; শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগে করা হচ্ছে মামলা ভারতের সঙ্গে কষ্টে গড়া সম্পর্ক ছোট্ট পেঁয়াজে নষ্ট হচ্ছে: সংসদীয় কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাতৃভাষা দিবস চালুর চেষ্টায় বিজেপি আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর মাগফিরাত কামনায় রংপুরে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন
add

তথাকথিত ঈদে মিলাদুন্নবি পালনের কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই : আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮
add

    আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী দা.বা.


ইসলাম ধর্মে কোনো ইবাদত সহিহ ও বিদয়াতমুক্ত হওয়ার জন্য উক্ত বিধানটি অবশ্যই শরিয়তের দলিল দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। শরিয়তের বিধানের অনেকগুলো উৎসমূল রয়েছে।
উক্ত উৎস দ্বারা যে বিধান প্রমাণিত হবে সেটাই গ্রাহ্য হবে।
ইসলামী বিধিবিধানের উৎসমূলসমূহ
ক. কোরআনুল কারিম
খ. হাদিস শরিফ
গ. ইজমা তথা একতা
ঘ. খোলাফায়ে রাশিদিন ও সাহাবায়ে কেরামের আমল ও কর্মপন্থা
ঙ. খোলাফায়ে রাশিদিন ও সাহাবায়ে কেরামের পর তাবিয়িন ও তাবে তাবিয়িনদের কর্মপন্থা এবং তাদের
কোনো কাজ করা না করাটা ইসলামের বিধিবিধান প্রণয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
চ. কিয়াস তথা কোরআর হাদিস থেকে নির্গত যুক্তি। তবে ইবাদত প্রমাণের জন্য কিয়াস প্রযোজ্য নয়। যেমন কেউ যদি অন্যান্য নামাজের সাথে কিয়াস করে ঈদের নামাজের আজান ইকামত দেয় তাহলে তা বিদআত বলে গণ্য হবে।
এ সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর জেনে রাখা উচিৎ যে, অনুসন্ধান করলে দেখা যায় কোরআন-হাদিস ও শরিয়তের অন্যান্য দলিল প্রমাণের উৎসমূল কোনোটার আলোকেই মিলাদ মাহফিল ও ঈদে মিলাদুন্নবি উদযাপন প্রমাণিত নয়। বরং এটা নতুনভাবে উদ্ভাবিত অনৈসলামিক সংস্কৃতি। কোরআনের ১১৪টি সুরার কোথাও এই ধরনের মিলাদুন্নবি উদযাপনের কথা বলা হয়নি। অনুরূপ সিহাহ সিত্তাসহ অন্যান্য প্রহণযোগ্য কোনো হাদিসগ্রন্থেও এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতার কথা বল হয়নি। কোনো ফিকহের কিতাবে এমন উৎসবের আয়োজন করতে বলা হয়নি। এমনকি একটু ইঙ্গিত (ইশারাতুন নাছ) পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তারপর ইজমা তথা উম্মতের ঐক্যবদ্ধের তো প্রশ্নই আসে না।
কেননা ইসলামের প্রথম ছয় শতাব্দিতে এই ধরনের কর্মকা-ের
কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। বরং এর উদ্ভাবনকাল থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উলামায়ে কেরাম এ আনুষ্ঠানিকতার কঠোর সামলোচনা করে আসছেন। আর এধরনের লৌকিকতাপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাকে প্রমাণ করতে কিয়াস তো প্রথম থেকেই প্রযোজ্য নয়। ইসলামের চার ইমাম পরবর্তী লোক যারা মিলাদুন্নবির আবিষ্কারক তাদের তো কিয়াস ও ইস্তিহসানের সামান্যতম যোগ্যতাও নেই। (কুতুবে তাবকাতে ফুকাহা)
মোটকথা ফেলাফতে রাশেদার ৩০ বছর, ১১০ হিজরি পর্যন্ত সাহাবিদের যুগ, এবং প্রায় ২১০ হিজরি পর্যন্ত তাবে তাবিয়িনের যুগে প্রচলিত মিলাদের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ তারাই দুনিয়ার বুকে নবী প্রেমের সর্বোত্তম নিদর্শন রেখে গেছেন। ভালবাসা প্রকাশের এমন কোনো কাজ তারা বাকি রাখেননি যা আমাদের নতুনভাবে আবিষ্কার করতে হবে। যেহেতু প্রকৃত নবীপ্রেমিকরা কখনও এসব আনুষ্ঠানিকতা করেননি। তাই বুঝতে হবে এমন কাজ না করাটাই বাস্তব প্রেমের আলামত।
উহুদ যুদ্ধে হজরত তালহা (রাজি.) আপন শরীর দ্বারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেহকে আড়াল করে রেখে ছিলেন। ফলে তার শরীরে শত্রুপক্ষের সত্তরটির মতো তীর বিদ্ধ হয়েছিল। আরেকজন সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রাজি.) রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইনতিকালের পর শোকে মহ্যমান হয়ে দোয়া করছিলেন- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অন্ধ করে দিন। এই চোখ দিয়ে যাতে প্রিয় নবীর পর আর কাউকে দেখতে না হয়।” হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, উক্ত সাহাবি সত্যি সত্যিই অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
আরেকজন মহিলা সাহাবি যার পিতা, স্বামী ও পুত্র উহুদ যুদ্ধে শাহাদাত
বরণ করেছিলেন তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে
দেখে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে পাওয়ার শর্তে আমার পক্ষে যে কোনো মুসিবত সহ্য করা অতি সহজ। অনুরূপ হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পবিত্র মুখ থেকে যে থুতু ফেলেছিলেন পড়ার আগেই সাহাবারা সম্মানের সাথে হাতে তুলে নিয়ে নিজেদের শরীরে মেখে নিয়েছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাথা থেকে কোনো চুল পড়তে না পড়তে সাহাবায়ে কেরাম হাতে তুলে নিতেন। (সিরাতে মুস্তফা, তানজিমুল আশতাত)
দুনিয়ার ইতিহাসে প্রেম ভালোবাসার এমন নজির কি দ্বিতীয়টি আছে? এ নজির বিহীন প্রেম ভালোবাসার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন জাগে সাহাবায়ে কেরাম সম্মান ও ভালোবাসা জ্ঞাপনের নিদর্শন স্বরূপ মিলাদুন্নবি ও জুলুস মিছিলের কথিত এই আয়োজন কি কোনো সময় করেছিলেন? অতপর তাদের পরবর্তী তাবেয়ি ও তাবে তাবিয়িনদের কেউ কি এই উদাহরণ স্থাপন করে গেছেন? যদি তারা করে থাকেন তাহলে তো এ বিষয়ে উম্মতের কারো ভিন্নমত পোষণ করার সুযোগ ছিল না। মিলাদ পড়তে আমারাও তখন একমত হতাম। কিন্তু যদি প্রমাণ করতে না পারে (ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত পারবে না।) তাহলে সোনালি যুগে যে কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না সেটা কী করে অসীম বরকতের কাজ হতে পারে?
এ ব্যাপারে ইমাম মালেক (রহ.) এর বাণী প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন- এই উম্মতের পরবর্তী যুগকে ওই পন্থায় সংশোধন করা যাবে যে পন্থায় প্রথম যুগ সংশোধন হয়েছিল। (ইকতিজাউ সিরাতিল মুসতাকিম : ৩৬৭) কেবল এই মৌলিক কথাটির ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে চিন্তা করা হলে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এসব আচার-অনুষ্ঠান সত্যি কি সুন্নাত ও নবী প্রেমের কাজ না বিদয়াত?
মিলাদ মাহফিলের ইতিকথা
উপরোক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে শরিয়তের কোনো দলিল এবং তিন যুগের মহান চার খলিফা, সাহাবি, তাবেয়ি ও তাবে তাবিয়িদের কোনো আমল দ্বারা প্রচলিত মিলাদ মাহফিল ও জুলুস মিছিল প্রমাণিত নয়। এমনকি উম্মতের পরবর্তী মহান চার ইমাম এবং সিহাহ সিত্তার রচয়িতাগণ, বড় বড় মুহাদ্দিসগণের আমলেও এই মিলাদ মাহফিলের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না। এভাবে বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.), খাজা মইনুদ্দিন চিশতি (রহ.) প্রমুখ যুগ বরেণ্য সুফি সাধকগণও এ ধরনের আয়োজন করেননি।
তাহলে প্রশ্ন জাগে এই মিলাদ সূত্র কি এবং এর জন্ম কোথায়? এ ব্যাপারে ব্যপক অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হল ৬০৪ হিজরি সনে ইরাকের মুসেল শহরে বাদশাহ আবু সাইদ মুজাফফর মুকুবুরি ও আবুল খাত্তাব ওমর ইবনে দিহয়া নামক জনৈক দরবারি আলেম দ্বারা সর্বপ্রথম এর গোড়াপত্তন হয়। ১২ ই রবিউল আউয়াল ভিত্তিক এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল আনন্দ-উৎসব এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য ইসালে সওয়াব করার উদ্দেশ্য জিয়াফতের ব্যবস্থা করা।
(তারিখে ইবনে কাবির : ১৩/১৩৬; তারিখে ইবনে খাল্লিকান : ৪/১১৭; ইখতিলাফে উম্মত ও সিরাতে মুস্তাকিম : ১/৮৩)
মিলাদের কট্টর সমর্থক মৌলভি আহমদ রেজা খাঁ বেরলভির বিশিষ্ট খলিফা মৌলভি আবদুসসমি রামপুরী সাহেবও সে কথা স্বীকার করেন। তার ভাষায়-রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখে আনন্দ উল্লাস ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের জন্যে যে
তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় তা হয়েছিল ৬০০ হিজরি সনের শেষ ভাগে। (আওয়ারে সাতেয়া : ১৬৩)
যে বাদশাহর ব্যবস্থাপনায় এই মিলাদের জাকজমকপূর্ণ আয়োজন করা হত তিনি কোন প্রকৃতির আলেম ছিলেন তার ব্যাপারে ইমাম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ মালেকি (রহ.) এর করা মন্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি লিখেছেন- সে ছিল এক অপব্যয়ী বাদশাহ। সে ইজতিহাদ ও অভিরুচি মতে আমল করার জন্যে সমকালীন আলেমদের আদেশ দিত এবং অন্য ইমামের অনুসরণ না করার জন্যে উৎসাহ যোগাত। ফলে স্বার্থপর আলেমদের একটি দলকে সে ভাগিয়ে নিয়েছিল। সে প্রতি রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করত। সে-ই প্রথম বাদশাহ যে নবতর এই প্রথার ভিত্তি স্থাপন করে। (আল কাউলুল মুতামাদ ফিল মালিল মাওলিদ, আল মিনহাজুল ওয়াজিহাহ : ২৪৯)
এই অপব্যয়ী বাদশাহ প্রজাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্যে ধর্মের নামে বাইতুল মালের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে মিলাদুন্নবির আয়োজনে পানির ন্যায় টাকা অপচয় করে ফেলত। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও হাদিস বিশারদ আল্লামা জাহাবি রহ. বলেন- সে প্রতি বছর মিলাদুন্নবি উপলক্ষ্যে প্রায় তিন লক্ষ দিনার ব্যয় করতো। (দালাইলুল ইসলাম : ২/১৩৬)
আল্লামা ইবনে কাসির ও আল্লামা ইবনে খাল্লিকান (রহ.) বলেন- ‘কোনো কোনো মিলাদ মাহফিলে সেই বাদশার দস্তরখানে পাঁচ হাজার ভূনা মাথা, দশ হাজার মুরগি এবং ত্রিশ হাজার হালুয়ার পাত্র থাকত। অনুষ্ঠানের স্থানে স্থাপন করা হত বিশটিরও অধিক চার-পাঁচ তলা বিশিষ্ট গম্বুজ । তন্মেধ্যে একটি গম্বুজ বাদশাহর জন্য নির্দিষ্ট থাকত। অবশিষ্ট গম্বুজগুলোতে অবস্থান করত বাদশাহর মন্ত্রী ও সভাসদগণ। সফর মাস থেকেই শুরু হত গম্বুজ সাজানোর কাজ। এই অনুষ্ঠানে অত্যন্ত ধুমধামের সাথে নাচগানের আসর বসত। বাদশাহ নিজেও নাচে অংশগ্রহণ করত। মাহফিল শেষে আগতদের যথাযোগ্য সম্মানীও দেওয়া হত।’ (তারিখে ইবনে কাসির : ১৩/১৩৭; তারিখে ইবনে খাল্লিকান : ৪/১১৭-১১৯)
সুপ্রসিদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ ‘দালাইলুল ইসলাম’ -এ দেখা যায় এই অপব্যয়ী বাদশাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মিলাদ মাহফিলের বৈধতা ব্যাখ্যা করে আবুল খাত্তাব ইবনে ইয়াহইয়া ‘আত তানবির ফি মাওয়ালিদিস সিরাজিল মুনির’ নামক একটি কিতাব রচনা করেছিলেন। এ জন্য সে বাদশাহর পক্ষ থেকে এক হাজার দিনার উপহার স্বরূপ লাভ করে। (দালাইলুল ইসলাম : ২/১৩)
বিশুদ্ধ ইতিহাস পাঠ ও তার নিরীক্ষণ আমাদেরকে সততা পর্যন্ত পৌঁছতে সহায়তা করবে। যে বিধানের কথা কোরআন, হাদিস, ইজমা এবং সাহাবায়ে কেরাম ও পরবর্তী উলামায়ে কেরামের আমলে নেই, কী করে কতিপয় নামধারী মুসলমানের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াল? এখন কি আমাদের কাছে সে বিষয়টাও স্পষ্ট নয় যে একজন একজন অপব্যয়ী বাদশাহ তার নিজ চাহিদা পূরণের জন্য এ সংস্কৃতির জন্ম দেন? আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম যে মত পথ আমাদেরকে বাতলিয়ে দিয়েছেন তা ব্যতিরেকে অন্য কোনো পথে আমাদের মুক্তি মিলবে এ কথা কল্পনা করাটাও তো বোকামি।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে যাবতীয় কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুক। আমিন।
শাইখুল হাদিস ও সহকারী পরিচালক, দারুল উলুম মইনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।
মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: