শিরোনাম
জুমার মিম্বার থেকে বাবুনগরী : আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছেন, তবে ছেড়ে দেননি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মসজিদ-মাদ্রাসা উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে মুফতি আজম আবদুচ্ছালাম চাটগামীর খোলা চিঠি রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো আলেম, দুর্ভোগে পরিবার মসজিদ লক করার ইখতিয়ার কারো নেই : মুফতি সাখাওয়াত চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে রোজার অতুলনীয় উপকার, বিবিসির প্রতিবেদন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে, কাল রোজা ইসলামাবাদীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে : আমীরে হেফাজত  আল্লামা শফীর ইনতিকাল স্বাভাবিক, পিবিআইয়ের রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার : হেফাজত আমির
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
add

‘তাসহিল’ ও ‘আওনুল মুগীস’ নির্ভর দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষার প্রস্তুতি; মেধা বিকাশে প্রতিবন্ধক

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৯
add

ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ
‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’র ওয়েব সাইটে (www.alhaiatululya.com) প্রাপ্ত তথ্য মতে ১৪৪০ হিজরি সন মোতাবেক ২০১৯ খ্রিস্টীয় সনে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা আগামী এপ্রিল মাসের আট তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কিন্তু একটি চিত্র উলামায়ে কেরামসহ দূরদর্শীদের হতাশ করছে। বিজ্ঞগণ মনে করেন, ‘হাইআতুল উলয়া’র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমাদের ছাত্রদের প্রস্ততিগ্রহণ-পদ্ধতি একটি বিপদজনক মোড় নিয়েছে। প্রতি বছর পর্যাপ্ত ইলমশূন্য একটি উলামার জামাত কি তাহলে উম্মাহ উপহার পেতে যাচ্ছে? এ ধারণাটি মোটেও অমূলক নয়।
প্রতিটি ক্লাসের ছাত্রদের মেধা অনুপাতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ১. উত্তম মেধাবী (জকি)। ২. মধ্যম মেধাবী (মুতাওয়াসসাত)। ৩. স্বল্প মেধার অধিকারী (গবি)। একসময় যারা উত্তম মেধাবী তারা কিতাবের মূল পাঠ্য (মতন), হাশিয়া বা আরবি শরাহ-শরুহাত (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) দেখেই সর্বদা কিতাব অধ্যয়ন করতেন। একটি বিষয় নিজের মত করে বুঝে থাকলেও সেটি উসতাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করতেন; নতুন কিছু শেখার তামান্নায়। আর যারা মধ্যম পর্যায়ের মেধাবী তারা আরবি হাশিয়া বা শরাহ না বুঝলে উসতাদের শরণাপন্ন হন। নতুবা উর্দু শরাহ দেখেন। এ দুই শ্রেণির ছাত্ররা পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ক্লাসের সব কিতাব পূর্ণাঙ্গভাবে অধ্যয়ন করেন। তৃতীয় স্তরের মেধাবীরা উর্দু শরাহ পড়েন। না বুঝলে ক্লাসের মেধাবীদের সাহায্য নেন। তাদের তাকরায় বসেন। তাদের কেউ কেউ যদি পূর্ণ কিতাব অধ্যয়ন করতে নাও পারেন, তবে কিতাবের বিশেষ বিশেষ স্থানগুলো অবশ্যই সমাধান করে নেন। প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ স্থানগুলো বাদ যেত না ভুলেও। এ কথাগুলো খুব বেশি দূরঅতীতের নয় এবং খুব বেশি পরিশ্রমের পড়াশোনার কথা বলছি, তাও নয়। অথচ এ কথাগুলো বর্তমান সময়ের ছাত্রভাইদের কাছে নিতান্তই অলীক গল্প মনে হবে। এখন তো দাওরার সব শ্রেণির ছাত্ররাই আওনুল মুগীস ও তাসহিল নির্ভর! অন্তত দারসে তিরমিজি খুলে দেখারও সময় নেই। অথচ মনোযোগের সাথে এ একটা শরাহ অধ্যয়ন করলে দাওরার অনেকগুলো কিতাব এক সাথে অধ্যয়ন হয়ে যায়। আমাদের পাঠপদ্ধতি, পরীক্ষার প্রস্তুতির একাল সেকাল আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
প্রশ্ন করা যেতে পারে, পার্থক্য হলে সমস্যাটা কোথায়? আসলে সমস্যাটা খুবই ভয়াবহ! মারাত্মক! শব্দের গাঁথুনিতে মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চিন্তক সকল আলেমই বর্তমান পরিস্থিতি দেখে হতাশ, পেরেশান। আমাদের আকাবিরদের রচিত গ্রন্থাবলিতে আধ্যাত্মিক যে প্রভাব, মাসয়ালাগুলো স্মরণ রাখার অলৌকিত যে সাহায্য তা ভুলে ভরা, বিকৃতি ও অস্পষ্ট বাংলা-আরবি গাইডে সর্বদা অনুপস্থিত। আর গাইডগুলোর প্রতি বিতাবের মত বাড়তি মর্যাদাবোধ না থাকায় তার পাঠের প্রতিও কোনো টান থাকে না। যা পড়া হয় তাও আর অন্তরে স্থান করে নিতে পারে না। এ ছাড়াও ইলমি ও ইসলামি পরিভাষাগুলো বাংলায় কি যথাযথ অনুবাদ করা সম্ভব? কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেগুলোর একটা অনুবাদ দাঁড় করা হচ্ছে। সেই অনুবাদ মুখস্থ করে খুব সহজে পরিভাষাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই ইলমের প্রকৃত নুর এবং এর প্রভাব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো ছাত্র।
সম্পাদক: কওমি ভিশন
সহকারী সম্পাদক: মাসিক আল মানাহিল

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: