শিরোনাম
ম্যাক্রোঁর ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ভারতজুড়ে হ্যাশট্যাগ নাজিরহাট মাদ্রাসার মুহতামিম নির্ধারণের লক্ষ্যে মজলিসে শূরার বৈঠক আজ আগামী শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকারী ফ্রান্সের ম্যাগাজিন ‘শার্লি হেবদো’র ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা চালিয়ে ডাউন করেছে বাংলাদেশি হ্যাকাররা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সবার আগে জুনাইদের বুক থাকবে : আল্লামা বাবুনগরী পেশোয়ারের মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল্লামা তাকী উসমানী ফ্রান্সে মহানবীর অবমাননার প্রতিবাদে জামিয়া বাবুনগরের মসজিদে প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের তাগুতি শক্তি অচিরেই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে : খেলাফতে যুব মজলিস চট্টগ্রাম পাকিস্তানের পেশোয়ারে মাদ্রাসায় সন্ত্রাসী হামলা; নিহত ৭, আহত ৭০ এর অধিক ‘ফরাসি পণ্য বয়কট করুন’: তুর্কি জনগণের প্রতি এরদোগানের আহ্বান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন
add

নির্বাচন, ইশতেহার ও ওলামায়ে কেরামের সমস্যা

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
add

তারেকুল ইসলাম
এই নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছে। কিন্তু এই ইশতেহারগুলোর প্রতি ওলামায়ে কেরামের কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য আমরা পাইনি।
এইযে বড় বড় দলগুলোর বিশাল বিশাল নির্বাচনী ইশতেহার গেলো। ওলামায়ে কেরামের প্রধান দাবি-দাওয়ার কোনোটাই এগুলোতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি (১৩ দফার কোনোটাও না)। বিশেষত ৫মে শাপলা চত্বরের খুনিদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি কোনো ইশতেহারেই কিন্তু দেখা যায়নি।
এই দেখা না যাওয়ার রাজনৈতিক কারণ আছে। আর সেটা হলো, ২০১৩-এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মূল প্রভাবক হয়ে উঠেছিল ওলামায়ে কেরামই। কিন্তু হেফাজতের প্রভাবাধীন রাজনৈতিক অভিমুখটি কয়েকটি কারণে দিকভ্রষ্ট হয়েছে। যার প্রধান কারণ- শোকরানা মাহফিল করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা হারানো। আরেকটা কারণ হলো, কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক চাই শীর্ষক সর্বস্তরের তরুণপ্রজন্মের আন্দোলনমুখী অভ্যুত্থান। এর ফলে বাংলাদেশের মূলধারার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে নতুন ফেনোমেনা ও মাত্রা যোগ হয়েছে।
ফলে হেফাজতমুখী ওলামায়ে কেরামের এতদিনের একক রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূমিকায় ভাগ বসিয়েছে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী তরুণ প্রজন্ম। অর্থাৎ মূলধারার রাজনীতি এখন আর কেবল ধর্মভিত্তিক কিছু দাবি-দাওয়া দ্বারাই প্রভাবিত বা তাড়িত নয়; বরং একইসাথে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন দ্বারাও প্রভাবিত ও তাড়িত। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারগুলোর দিকে খেয়াল করুন। সেগুলোতে ওলামায়ে কেরামের মেজর ধর্মভিত্তিক দাবিসমূহকে খুব একটা আমলে নেওয়া হয়নি। বরং সর্বস্তরের তরুণপ্রজন্মের জাগতিক চাহিদাসমূহই প্রধান্য পেয়েছে। সো, দেখা যাচ্ছে, ওলামায়ে কেরামের এতদিনের রাজনৈতিক অগ্রগতি থমকে গেছে। আর আগাইতে পারলো না।
সবসময় দেখেছি, ওলামায়ে কেরামের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কয়েকটি মেজর পয়েন্টেই সীমাবদ্ধ। যেমন, সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটির পুনঃস্থাপন, সেকুলার শিক্ষানীতি ও ইসলামবিরোধী নারীনীতি বাতিল, এবং আল্লাহ, রাসূল স. ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিকদের বিচারের দাবি। এই দাবিগুলো অবশ্যই গণদাবি এবং যৌক্তিকও। কিন্তু এর বাইরে আর কোনো মেজর পয়েন্ট তাদের নাই।
কিন্তু সাম্প্রতিককালে মূলধারার জাতীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাব ও অবস্থান অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা জনগণের আরো নানা ইস্যুতে প্রসারিত হওয়া অত্যন্ত দরকারি ছিল। কিন্তু তাদের রাজনীতি দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর এগোলো না।
গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, রিজার্ভ লুট, দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ড ইত্যাদি ইস্যুতে তাদেরকে বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। তাহলে কি সাধারণ মানুষ ধরে নেবে যে- ওলামায়ে কেরামের উপরোক্ত মেজর পয়েন্টগুলো সরকার মেনে নিলেই আর সব ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ড ও লুটপাট নীরবে মেনে নেওয়ার হতো বিষয় হয়ে যেতো?
কিংবা কওমি স্বীকৃতির মুলা ঝুলিয়ে দিয়ে আর শোকরানা মাহফিল করে দিলেই ফ্যাসিবাদীদের সাত খুন মাফ হয়ে যাবে?!! এমনটা নিশ্চয়ই নয়। আর সেজন্যই বলি কি, ওলামায়ে কেরাম যেহেতু মূলধারার রাজনীতিতে এখন মোটামুটি প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন, সেহেতু তাদেরও অন্যান্য জাতীয় সংকট ও ইস্যুতে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করা উচিত।
কওমি স্বীকৃতি- ওলামায়ে কেরামের পুরোনো দাবি। সাম্প্রতিককালের জেগে ওঠা কোনো দাবি ছিল না। এমনকি ১৩ দফার মধ্যেও কওমি স্বীকৃতির কথা ছিল না। এমনকি সাম্প্রতিককালে এই ইস্যুতে ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকেও কোনো আন্দোলন হয়নি। ঠিক নির্বাচনের আগে-আগে সরকার যেচে এসে এই স্বীকৃতি কেন দিলো? সবাই নিশ্চয়ই এর রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিটা বুঝেন। এই পোস্টে কওমি স্বীকৃতি পেলে কওমি শিক্ষার্থীদের উপকার বা ক্ষতি আমার আলোচ্য বিষয় না।
আচ্ছা, স্বীকৃতি পাওয়া হলো এবং শোকরানা মাহফিলও দেওয়া হলো। তার মানে স্বীকৃতি দানকারী কর্তার সাত খুন মাফ হয়ে যাবে? কিংবা নীরবে মেনে নেওয়ার মতো বিষয় হয়ে যাবে কি? যদি তা না হয়, তাহলে অন্যান্য জাতীয় ইস্যু ও সংকটে ওলামায়ে কেরামের নীরবতা কেন? যেহেতু বর্তমান রাজনীতিতে তাদের অবস্থান ও প্রভাব যথেষ্ট, সেহেতু এই প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটা চলে আসে। এই নীরবতাই তাদের রাজনৈতিক অগ্রগতিকে স্থবির করে দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতেও তাদের মেজর দাবি-দাওয়ার কোনোটাই স্থান পায়নি।
আর এই নীরবতাকে কোনোভাবে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করা হলে তরুণপ্রজন্ম ইসলামকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হবে। ওলামায়ে কেরামের কাছ থেকে ইসলামী জীবনব্যবস্থার সবক নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না। কারণ ইসলাম কেবল কয়েকটা ধর্মভিত্তিক দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামের প্রস্তাবনা ও ভূমিকা আরো ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী। আর সেই নীরবতার মানে হলো, ইসলামের জাগতিক দিকনির্দেশনার প্রতি উদাসীনতা দেখানো। ওলামায়ে কেরাম এগুলো নিয়ে আশা করি ভাববেন।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: