শিরোনাম
জুমার মিম্বার থেকে বাবুনগরী : আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছেন, তবে ছেড়ে দেননি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মসজিদ-মাদ্রাসা উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে মুফতি আজম আবদুচ্ছালাম চাটগামীর খোলা চিঠি রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো আলেম, দুর্ভোগে পরিবার মসজিদ লক করার ইখতিয়ার কারো নেই : মুফতি সাখাওয়াত চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে রোজার অতুলনীয় উপকার, বিবিসির প্রতিবেদন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে, কাল রোজা ইসলামাবাদীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে : আমীরে হেফাজত  আল্লামা শফীর ইনতিকাল স্বাভাবিক, পিবিআইয়ের রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার : হেফাজত আমির
রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
add

নিশ্চয় বিশ্ব নবী সা. আমাদের জন্য অনুপম আদর্শ

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮
add

হাফেজ জুনায়েদ ইমামনগরী
রাসূলে কারীম সা. এর সীরাত হল মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম আলোচনার বিষয়। পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তি নেই যার আলোচনা করলে উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে। একজন মুসলমান যখন নবীর উপর ঈমান আনেন তখন সর্বক্ষেত্রে তার আদর্শ কে ধারন করা জরুরী হয়ে পড়ে। তারপরও আজ কিছু নামধারী মুসলমান হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সা. এর পবিত্র সীরাত কে নির্দিষ্ট মাস বলা যায় নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ করে পেলেছে। ঐদিন কিছু সময় লাফালাফি করে মনে করা হয় আজ নবীর সা. সীরাতের হক আদায় করে পেলেছি। সীরাতে রাসূলের সাথে এরছেয়ে বড় জুলুম আর হতে পারেনা। সাহাবা জীবনে এমন কোন দৃষ্টান্ত খুজে পাওয়া যাইনা যে, তারা নির্দিষ্ট মাস বা নির্দিষ্ট দিনে রাসূলের জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে আলেচনা বা সীরাতের মাহফিলের আয়োজন করেছেন। বরং সাহাবাদের কর্মক্ষেত্রে সবসময় রাসূলের আদর্শ কে সফল জীবনের লক্ষ বস্তু ঠিক করে নিয়েছেন। যেখানেই দুইজন সাহাবী রা. মিলিত হতেন নবীর সা. হাদীস, রাসূলের সা. বয়ান,রাসূলের দেয়া শিক্ষা এবং নবী কারীম সা. এর বিভিন্ন গঠনা নিয়ে আলোচনা করতেন। যার কারণে রাসূলের সাথে তাদের গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য লোক দেখানো আয়োজনের কোন প্রয়োজন ছিলনা। সাহাবায়ে কেরাম রা. রাসূলের সা. এর জন্য এমন পাগল ছিলেন যে, তার একটা নিশাঃস কে পর্যন্ত তারা অনুসরনের জন্য নিজের জীবন কে বিলিয়ে দিতেন।
আফসোস ! বর্তমান সময়ে বিশেষ করে আমাদের দেশে বারঈ রবীউল মাস আসলে চর্তুদিকে সীরাতুন্নবী-মীলাদুন্নবীর নামে জসনে জুলুছের একটা রছম শুরু হয়ে যায়। বলা হয় খ্রীষ্টানরা হযরত ঈসা আঃ এর জন্মদিনের নামে বড়দিন পালন করতে পারলে আমরা বিশ্ব নবীর জন্মদিন পালন করতে পারবো না কেন? তাদের দেখা দেখি আমরাও তখন নির্দিষ্ট দিনে ঈদে মীলাদুন্œবীর নামে লোক দেখানো জন্মদিন পালন করছি।আর জন্মদিন নামের একুপ্রথা আমরা অমুসলিমদের কাছ থেকে ধার করে নিয়েছি। অথচ আমাদের সামনে রাসূলের উত্তম আদর্শ রয়েছে। একজন মুসলমান অন্য কোন ধর্মের যুক্তি তুলে ধরতে পারেনা।
মনে রাখতে হবে, যত ভাল কাজই হোক না কেন ? নিয়ত সহীহ না হলে এর কোন প্রতিদান পাওয়া যায় না।বরং অর্থের অপচয়, সময় নষ্ট এবং সর্বোপরি গুনাহের কারণ হয়ে দাড়ায়। যেমন, ঈমানের পর সর্বোত্তম আমল হল নামায। কোরআন-হাদীসে তার অসংখ্য ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু কোন ব্যক্তি যদি এ উদ্দেশ্যে নামায পড়ে যে, লোকে তাকে ভাল বলবে, সমাজে তার প্রশংসা করা হবে, তাহলে তার এনামাযে কোন ফায়দা দিবে না। বরং লোক দেখানো তার এ নামায গুনাহের কারণ হয়ে দাড়াবে। নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি মানুষ কে দেখানোর জন্য নামায পড়বে সে যেন আল্লাহর সাথে দ্বিতীয় কাউকে শরীক করল”। (মুসনাদে আহমদ-৪/১২৬)
বস্তুত, লোক দেখানো কোন আমল আল্লাহ তাআলা কবুল করেন না। তাছাড়া আমাদের সামনে রাসূলে কারীম সা. এর অনুপম আদর্শ বিদ্যমান। মহান রাব্বুল আ’লামীন বিশ্ব নবীর প্রবিত্র জীবনীর প্রত্যেকটা শাখা উপশাখা আমাদের জন্য নমুনা হিসেবে বানিয়েছেন। অতএব, সব বিষয়ে একমাত্র তারই অনুসরন করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর সা. মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে”। (সূরা আল আহযাব-২৩)
রাসূলের উত্তম আদর্শ থেকে তারাই একমাত্র উপকার লাভ করতে পারবে যারা আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য সবকিছু করবে। সুতরাং যার জন্য এত কিছুর আয়োজন করছি এবং যাকে উদ্দেশ্য করে আজকের জসনে জুলুছ পালন করছি আমাদের কে জানতে হবে এবিষয়ে তার শিক্ষাটা কী ছিল ? তার সা. দেয়া শিক্ষার মধ্যে এরকম কোন প্রথা তখন কী ছিল ? তার জীবদ্ধশায় বা খোলাফায়ে রাশিদীন, সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীনের আমলে এরকম কোন রসমের প্রচলন কী ছিল ?
তবে কেন নবীর রেখে যাওয়া আদর্শ ছেড়ে পাশ্চ্যত্যের অনুসরন করছি ? রাসূলের আদর্শের সাথে এটা গাদ্দারী নয় কী ? আল্লাহর রাসূলের রক্তঝরা দ্বীন কে পাশ কাটিয়ে বিজাতির অনুসরন করা প্রাকাশ্যে নবীর সন্নাতের অবমাননা নয় কী ? আশেকে রাসূল সা. দাবীদার একজন মুসলিম হিসেবে নবীর সুন্নাতের অবমাননা কিভাবে সম্ভব ? যেখানে সাহাবায়ে কেরাম রা. যুদ্ধের ময়দানে পর্যন্ত প্রিয় নবী সা. কে পিছনে রাখতে ইতস্ততবোধ করতেন। অথচ একজন ঈমানদারের জন্য তার সর্বক্ষেত্রে রাসূলের সুন্নাত এবং অনুপম আদর্শ কে আঁকড়ে ধরাটা জরুরী।
যদি তুমি পিতা হয়ে থাক তহলে দেখতে হবে হযরত ফাতেমা রা. এর পিতা সা. কেমন ছিলেন ? যদি তুমি স্বামী হয়ে থাক তাহলে দেখতে হবে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. এর স্বামী সা. কেমন ছিলেন ? যদি তুমি শ্রমিক হয়ে থাক তাহলে দেখতে হবে মক্কার পাহাড়ে ছাগল চরানো শ্রমিক কেমন ছিলেন ? যদি তুমি রাষ্ট্র প্রধান হয়ে থাক তাহলে দেখতে হবে মদীনার রাষ্ট্র পধান সা. কিভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন ? যদি তুমি ব্যবসায়ী হয়ে থাক তাহলে দেখতে হবে দুই জাহানের সরদার হযরত মুহাম্মদ সুস্তাফা সা. মুলকে শামের ব্যাবসায় কোন পদ্ধতি অবলম্ভন করেছিলেন ?
রাসূল সা. শ্রমিক ছিলেন, রাসূল সা. ব্যবসায়ী ছিলেন, রাজনীতিবিদ ছিলেন, রাষ্ট্র প্রধান ছিলেন, সামাজিক এবং পারিবারিক জীবন যাপন করেছেন। উম্মতের জীবন চলার পথে এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে বিশ্ব নবীর অনুপম আদর্শের উপস্থিতি নেয়।সুতরাং আমাদের কে তার নমুনার উপর চলতে হবে। যেভাবে সাহাবায়ে কেরাম রা., তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন এবং আমাদের আকাবীর হযরতরা অনুসরন করে গেছেন।
আজ সারা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মুসলমান হওয়া সত্যেও শুধুমাত্র প্রিয় নবীর সুন্নাত এবং অনুপম আদর্শ কে ছেড়ে দেয়ার কারণে চর্তুদিকে মুসলিমরা নির্যাতিত, নিপিড়িত এবং লাঞ্ছিত। রাসূল সা. বলেছেন – একটা সময় আসবে যখন মুসলমানের সংখ্যা অধিক হওয়া সত্যেও তারা পানিতে ভেসে আসা ময়লারমত হেয় প্রতিপন্ন হতে থাকবে। আজ আমাদের অবস্থা ঠিক এমনই দাড়িয়েছে। শত্রুকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য নিজের সব ঐতিহ্য কে বিষর্জন দিয়েছি।মাতা থেকে পা পর্যন্ত সব খুলে দিয়ে তাদের অনুসরন- অনুকরণ করছি কিন্তু তারপরও তারা সন্তুষ্ট নয় ! পৃথিবীর বোকে এমন কোন যায়গা নেই যেখানে তারা মুসলমান কে আঘাত করছেনা। তার একমাত্র কারণ প্রিয় নবীর সন্নাত কে ছেড়ে দেয়া। চৌদ্দশত বছর পূর্বে ফিরে দেখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিমরা রাসূলের সুন্নাত এবং অনুপম আদর্শের উপর অবিছল ছিলেন তখন পর্যন্ত তাদের শক্তি ছিল, সম্মান ছিল আর সবাই তাদের অনুসরন করেছে কিন্তু যখনই নবীর অনুপম আদর্শ থেকে বের হয়েগেছে তখন থেকেই মুসলমানরা লাঞ্ছিত, নিপিড়িত, অত্যাচারিত !
আল্লাহ তাআলা আমাদের কে বিশ্ব নবীর সুন্নাত এবং অনুপম আদর্শের উপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: