শিরোনাম
জুমার মিম্বার থেকে বাবুনগরী : আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছেন, তবে ছেড়ে দেননি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মসজিদ-মাদ্রাসা উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে মুফতি আজম আবদুচ্ছালাম চাটগামীর খোলা চিঠি রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো আলেম, দুর্ভোগে পরিবার মসজিদ লক করার ইখতিয়ার কারো নেই : মুফতি সাখাওয়াত চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে রোজার অতুলনীয় উপকার, বিবিসির প্রতিবেদন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে, কাল রোজা ইসলামাবাদীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে : আমীরে হেফাজত  আল্লামা শফীর ইনতিকাল স্বাভাবিক, পিবিআইয়ের রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার : হেফাজত আমির
শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৯ অপরাহ্ন
add

বিশেষ সাক্ষাৎকার: ফতোয়া দেয়ার যোগ্য কারা? ফাহীম মুহাম্মদ আতাউল্লাহ

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯
add

বর্তমানে মুফতির যেমন অভাব নেই, তেমনই অভাব নেই দারুল ইফতারও। প্রচলিত অনেক দারুল ইফতাকে মানুষ মুফতি তৈরির লাইসেন্স বিহীন কারখানা বলে থাকেন। আমরা এসব কথার কারণ অনুসন্ধান করেছি। মুফতি ও দারুল ইফতার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা রয়েছে। বর্তমানে অনেক দারুল ইফতা সেসব নিয়মের তোয়াক্কা করছে না বলে এসব ইফতা বিভাগকে মুফতি তৈরির লাইসেন্স বিহীন কারখানা বলা হচ্ছে। এসব ইফতা বিভাগের হর্তাকর্তারা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ভর্তি পরীক্ষায় শৈথিল্য এনে অযোগ্য  ও অমেধাবীদের ইফতা বিভাগে ভর্তি করেন বলে অভিযোগ বহু প্রসিদ্ধ ও পুরোনো। বৎসর শেষে ধরিয়ে দেয়া হয় মুফতির সার্টিফিকেটও। এভাবেই ফতোয়া প্রদানের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ অযোগ্যদের হাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ ফতোয়া প্রদান, শরিয়তের মূল্যবান অনুষঙ্গ ও আমানত।

ফতোয়া কী ও কেন? কারা ফতোয়া প্রদানের অধিকার রাখেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা কথা বলেছি, মুন্সীগঞ্জ, শ্রীনগর জামিয়া মাদানিয়া কোলাপাড়ার সুযোগ মুহাদ্দিস মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহর সাথে। পুরো সাক্ষাৎকারটি কওমি ভিশনের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

কওমি ভিশন : আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। কেমন আছেন মুহতারম?

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : ওয়ালাইকুম সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আল হামদুলিল্লাহ! আল্লাহর রহমতে ভাল আছি।

কওমি ভিশন : আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপনার সাথে আলাপ করব, সে বিষয়ে আশাকরি আপনি অবগত আছেন। কথা না বাড়িয়ে আমরা মূল প্রশ্নে যাই। আমরা যে ফতোয়া শব্দের সাথে পরিচিত সেটার শরিয়ি পরিচয় কী? অর্থাৎ শরিয়তের ভাষায় ফতোয়া বলতে কী বোঝায়?

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : ফতোয়া শব্দের শাব্দিক অর্থ- (ক) প্রশ্নের জবাব দেয়া। (কামূস ও লিসানুল আরব) (খ) যে কোন বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা। চাই শরয়ি বিধান সংশ্লিষ্ট হোক বা না হোক। (উসূলুল ইফতা) পরবর্তীতে ফতোয়া শব্দটি শরয়ি সমাধানের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। যেমন আরবি ভাষার নির্ভরযোগ্য প্রাচীন গ্রন্থ আল-কামুসুল মুহিত খ.৪ পৃষ্ঠা ৫৪০ ও লিসানুল আরবের খ.১৫ পৃষ্ঠা ১৪৮ বলা হয় الفتوي ما يفتى به الفقيه. তথা কারো প্রশ্নের জবাবে ফকিহ ( ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ) শরিয়তের যে বিধান বর্ণনা করেন, তাই ফতোয়া। পরিভাষায় ফতোয়া: ক. শরয়ি প্রমাণাদির আলোকে জিজ্ঞাসাকারীর নিত্য নতুন সমস্যাবলীর সমাধান দিতে গিয়ে ব্যাপকভাবে আল্লাহর হুকুম বর্ণনা করা। তবে আবশ্যিক আকারে নয়। (মিসবাহ) খ. ইবনে হামদান আল হাররানী হাম্বলী বলেন, ফতোয়া হলো কোনো ব্যক্তির জিজ্ঞাসিত বিষয়ে দলিলের আলোকে শরয়ি বিধান বর্ণনা করা।

কওমি ভিশন : ফতোয়া প্রদানে কতটুকু যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে (ফন) প্রাজ্ঞ হওয়া আবশ্যক?

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : ফতোয়া দানকারীর জন্য শর্ত- ক. কুরআন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকা। খ. সুন্নাতে নববী সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান থাকা। গ. ইজমা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। ঘ.আরবি ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা। ঙ. নাসিখ-মানসুখ তথা রহিতকারী বিধান ও রহিতকৃত বিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকা। চ. বর্ণনাকারীর/ প্রশ্নকর্তার অবস্থা সম্পর্কে জানা। ছ. যুগ-সচেতন হওয়া।

উপরোক্ত যোগ্যতার অধিকারী এবং ফতোয়ার মূলনীতি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ, সাথে সাথে যিনি ব্যক্তিজীবনে সুন্নাতে নববীর পাবন্দ এমন ব্যক্তিরাই ফতোয়া দিতে পারবেন। যে কোনো সাধারণ আলেমের জন্যও ফতোয়া প্রদান করার অধিকার নেই।

কওমি ভিশন : ইসলাম কোনো গোত্র কেন্দ্রিক ধর্ম নয়। কিন্তু বর্তমানে মতাদর্শ কেন্দ্রিক ফতোয়া বিভাগ গড়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ কাদের ফতোয়ার অনুসরণ করা উচিৎ বলে মনে করেন?

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : অবশ্যই তাঁর ফতোয়াই গৃহীত হবে যাঁর ফতোয়া ও আমলের মাঝে বৈপরিত্ব নেই। অর্থাৎ ফতোয়া প্রদানকারী কথা ও কাজে, চলনে বলনে শরিয়তের পাবন্দ হবেন।

কওমি ভিশন : এক সময় গোপনে থাকলেও এখন বিষয়টা একদম স্পষ্ট যে, কিছু ছাত্র অমেধাবী হওয়া সত্ত্বেও শুধু নামডাকের জন্য ব্যবসায়িক স্বার্থে গড়ে ওঠা ফতোয়া বিভাগ থেকে ইফতা পড়ছেন। বছর শেষে তাদের নামের সাথেও মুফতি লকব টানিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেহেতু তারা নিজেকে মুফতি দাবি করছেন, অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাদের ফতোয়াও কি গ্রহণযোগ্য?

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : এখন অধিকাংশ মুফতিগণ ‘নাকেলে ফতোয়া’ তথা কিতাব থেকে পূর্ববর্তী যামানার মুফতিয়ানে কেরামের ফতোয়াকে নকল করে থাকেন। তার সেই বক্তব্য যদি নিজের মন গড়া বক্তব্য না হয়; বরং সালাফের বক্তব্যের নকল হয় এবং নকল করার সকল শর্ত-শারায়েত অনুসরণ করে হয় তাহলে তা গ্রহণ করা যাবে।

কওমি ভিশন : অনেকে মুফতি হয়ে ইফতা বিভাগ খুলে বসছেন। আরো অনেককে মুফতি হওয়ার সার্টিফিকেটও দিচ্ছেন। আপনি কি মনে করেন ফতোয়া বিভাগ খোলার জন্য একটা মাপকাঠি থাকা উচিৎ।

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : ফতোয়া প্রদান করা নিঃসন্দেহে সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ। সাথে সাথে ফতোয়া একটি পবিত্র আমানত ও শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। আমি আগেই বলেছি, ফতোয়া শুধুমাত্র তারাই প্রদান করতে পারবে যারা উল্লিখিত বিষয়সমূহে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছেন। বুৎপত্তি হাসিল করেছেন। এরবাইরে অন্য কারো জন্য যেমনি ভাবে ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয় তেমনিভাবে এমন অযোগ্যদের গলায় এমন মর্যাদার মালা পরিয়ে দেয়াও ইলমি খেয়ানতের অন্তর্ভূক্ত। তাছাড়া, ইবনে আবেদিন শামী র. এর মতে ফতোয়া শব্দটি فتى তথা সামর্থবান যুবক ধাতু থেকে নিষ্পন্ন। সুতরাং যার মাঝে ইলমের দীপ্তি নেই, পৌরুষদীপ্ত পুঁজি নেই তাকে আপনি কেমন করে ফতোয়া প্রদানের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জিম্মাদারী সঁপে দেয়ার গোস্তাখি দেখাতে চান? এমন হলে সেই হাদিসটি আমাদের মনে রাখতে হবে যে, “একটি সময় এমন আসবে যখন মানুষেরা জাহেলদের নেতা বানাবে। ফলে সে নিজেও ভ্রষ্ট হবে জাতিকেও ভ্রষ্ট করবে।” অন্য বর্ণনায় আছে, যখন কোনো অযোগ্যকে যোগ্যতার আসনে বসানো হবে, তখন তুমি কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করো। সুতরাং শুধুমাত্র ব্যাবসার মানসে ব্যাঙের ছাতার মতো ফতোয়া বিভাগ খুলে জাতির উপর একজন অন্ধ রাহবার চাপিয়ে দেয়ার অপরাধে শেষ বিচারের কঠিন দিনে তাদেরকে অবশ্যই অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।  আল্লাহই সঠিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী।

কওমি ভিশন : আপনার মূল্যবান সময়টুকু আমাদের সাথে কাটানোর আপনাকে অসংখ্য মোবারকবাদ।

মাওলানা ফাহীম মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ : কওমি ভিশন পরিবারসহ কওমি ভিশনের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: