শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে সৌদিআরব অবশেষে ৩ অক্টোবর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বেফাকের বিতর্কিত মহাসচিব আবদুল কুদ্দুস ৭১ টিভিতে আমাকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে; ক্ষমা না চাইলে মামলা করব : কারী রিজওয়ান আরমান জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার সমস্ত শয়তানি কার্যক্রমের উৎস হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা: হুথি আনসারুল্লাহ হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীকে কটূক্তি; শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগে করা হচ্ছে মামলা ভারতের সঙ্গে কষ্টে গড়া সম্পর্ক ছোট্ট পেঁয়াজে নষ্ট হচ্ছে: সংসদীয় কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাতৃভাষা দিবস চালুর চেষ্টায় বিজেপি আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর মাগফিরাত কামনায় রংপুরে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
add

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও হত্যা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বাংলাদেশের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
add

ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ


ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে পাস হওয়া একটি আইন। এ বিলের উদ্দেশ্য ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধন। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী অবৈধ অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরকিত্ব পাওয়ার সুযোগ হয়েছে এই বিলের মাধ্যমে। অথচ মুসলিমদের জন্য এজাতীয় কোনো সুযোগের ব্যবস্থা রাখা হয় নি। এ আইনে সব ধর্মের লোক নাগরিকত্ব পেলেও বঞ্চিত মুসলিমরা। ভারতীয় আইনের আধারে তীব্র বিতর্কের পরও প্রথমবারের মত ধর্মীয় পরিচয়কে নাগরিকত্ব লাভের শর্ত হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দিল্লিতে সহিংসতা চলাকালীন সাধারণ মানুষের এদিক সেদিক ছোটাছুটির দৃষ্ট। ছবি: এপি

একতরফিয়া সাম্প্রদায়িক সিএএ-কে কেন্দ্র করে ভারতের দিল্লিতে সহিংসতা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রের যেকোনো আইনের প্রতি পক্ষে বিপক্ষে নাগরিকের মতামত থাকবে এটা স্বাভাবিক। আর আইনটি যখন রাষ্ট্রের একটি জাতিগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করার লক্ষে করা হয় তখন তা শুধু দেশের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনই নয়; বরং এতে প্রকাশ পায় রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি কতটা হিংস্র ও সাম্প্রদায়িক। আর এর প্রমাণ বারবার দিয়ে আসছে ভারত সরকার। গত কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে চলা সহিংসতায় এ পর্যন্ত (লেখাটি লেখার আগ পর্যন্ত) ৪০ -এর বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। নৈতিক দাবির পক্ষে মুসলমানদের অবস্থান, আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুসলিম নিধনে নেমেছে ভারত সরকার। বিবিসি, এপি, পিটিআইসহ দেশি বিদেশি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে আক্রমণে শুধু মুসলিমদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ঘর ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন ভারতের মুসলিমরা

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ভারতের বাইরেও। এই আইনের প্রতিবাদে ভারতের দুটি প্রাচীন মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদমুখর ছাত্রদের ওপর পুলিশ হামলা করেছিল। হামলার প্রতিবাদ করেছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভারতীয় ছাত্র ও অ্যালামনাইরা। আজ বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্যমূলক হিসেবে আইনটির নিন্দা করেছে।
কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি আমিরাত সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে ‘গালফ নিউজ’কে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে প্রাধান্য পেয়েছে ভারতের বিজেপি সরকারের সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব আইন। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এটাই বলে আসছে যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন কিংবা নাগরিকপঞ্জি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারত সরকারও এটাই দাবি করছে। তবে এই নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাস করানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।’ শেখ হাসিনা আরো বলেছেন, গত অক্টোবর মাসে তাঁর দিল্লি সফরের সময় নরেন্দ্র মোদি তাঁকে বলেছেন, ‘এই আইন পাস করা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’ (বিবিসি)
বাহ! কতই না সুন্দর। মোদীর শেখানো বুলিই শুধু তিনি উচ্চারণ করলেন না; শেখানো বুলি উচ্চারণের সাথে সাথে শিখিয়ে দেয়া উসতাদের নামও তুলে ধরলেন।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবানের বক্তব্যের বাহিরে গিয়ে মন্ত্রীরা বক্তব্য দিবে এমনটা ভাবা ভুল। আর সেটাই স্বীকার করলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি সম্প্রতি দিল্লিতে যা ঘটছে সেটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব‌্য করেছেন। ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের আগেই অনেকে হাস্যরস করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন, ওবায়দুল কাদেরের এমন আসবে। শেখানো বুলি উচ্চারণ করতে তিনি দেরি করলেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যেটা আজ দিল্লিতে ঘটছে, সেটা তাদের (ভারত) অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে আমরা কেন অযথা নাক গলাতে যাব। তাদের ইন্টারনাল সমস্যার সমাধান তারাই খুঁজে নেবে।’
ভারতে যখন মুসলিমদের নিধন চলছে তখনেই বাংলাদেশে মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে বিশ্ব সন্ত্রাসী মোদীকে আমন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওবায়দুল আমাদের লজ্জা দিয়ে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রধান সাহায্যকারী ও সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত। তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে আমাদের এখানে কোনো বিরোধ ও প্রতিক্রিয়া হলে, এ বিষয়ে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই সমাধান করতে পারি। কিন্তু এরকম একটা অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় মিত্র দেশ ভারত এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে সহযোগিতাকারী প্রধান দেশ হিসেবে সে দেশের প্রতিনিধিত্বকে আমরা বাদ দেব- এটা তো চিন্তাও করা যায় না।’

দিল্লির একটি মসজিদে আগুন ও মিনারে হিন্দুত্ববাদের পতাকা টানানো হচ্ছে

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে সারা বিশ্ব দেখেছে ভারতের দিল্লিতে কীভাবে মসজিদে আগুন লাগিয়েছে উগ্র হিন্দুরা। মসজিদের মিনার থেকে মাইক খুলে নেয়া হচ্ছে এবং সেখানে উগ্র হিন্দুত্ববাদেরর নিশান গেরোয়া পতাকা টানানো হয়। আগুন লাগানোর সময় তারা ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান দিচ্ছিল আর বলছিল ‘পুরো ভারত হবে হিন্দুদের’। মুসলমানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআনকে পোড়ানো হয় এবং মাটি ফেলে চরম অবমাননা করা হয়। যারা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। গর্ভবতীদেরও ছাড় দেয়া হয়নি। তাদের পেটে লাথি দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার চেষ্টা করে হিন্দু সন্ত্রাসীরা। ভারতের পুলিশের সহায়তায় হিন্দুদের আক্রমণে নিহত হলেন অনেকে। পুলিশের এসিড নিক্ষেপের ফলে চোখের আলো হারিয়েছেন অসংখ্য ভারতী মুসলিম। সরকারের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় গিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান দিতে দিতে বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঘরের ভেতরে মানুষ আছে কিনা সেদিকে কোনো খেয়াল করার প্রয়োজনই নেই। এভাবে পুড়ে মারা হয় ৮৫ বছরে এক বৃদ্ধা মুসলিম মহিলাকে। এসব ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ। আমরা দেখেছি কীভাব কাপড় খুলে মুসলিম কিনা তা চেক করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি দোকান। একটি মুসলিমের অপরটি হিন্দুর। মুসলিমের দোকান আগুন পুড়ে ছাই আর হিন্দুর দোকান অক্ষত। এসব কী সহিংসতা দমানো পদ্ধতি নাকি মুসলিম নিধনের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? মুসলিমদের টার্গেট করে এত অত্যাচার-নির্যাতন। তারপরও কি তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়?
আইনপ্রণয়ন থেকে পরবর্তী অবস্থা, সরকারের আগ্রাসী মনোভাব স্পষ্ট করে বলে দেয় এসব ভারতে মুসলিমশূন্য করার বড়সড় আয়োজন। একটা মানুষ যখন মুসলিম পরিচয় বহন করে, এক আল্লাহ ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্বাস করে, সে বিশ্বের যে প্রান্তেই বসবাস করুক না কেন, তার মাঝে বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমের মাঝে কোনো পার্থক্য থাকতে পারে না। কোনো ভেদাভেদ গণ্য নয়। কোনো কাটাতার বাধা নয়। তার রক্ত, আমার রক্ত একই। ইসলাম ধর্ম এমন নয় যে, ইসলাম সৌদিতে একভাবে পালন করবে আর পাকিস্তানে আরেকভাবে । বাংলাদেশে একরকম হবে ভারতে আরেকরকম। ইসলাম সর্বস্থানে এক ও অভিন্ন। পৃথিবীর কোনো একটি স্থানে যদি কোনো মুসলিম শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে আক্রান্ত হন তখন সেটি পুরো বিশ্বের মুসলিম আক্রান্ত হওয়ার মতই। এটি তখন অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; জাতিগত বিষয়। জাতির একজন লোক আক্রান্ত হলে পুরো জাতি কথা বলবে এবং বলতে হবে। এটাই ইমানের দাবি। আর ইমানি দাবির বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকদের বক্তব্য রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকের ধর্মীয় চেতনার সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। ভারতের চলমান ঘটনাবলিতে মুসলিমরা নির্যাতিত হচ্ছেন, এটা বিশ্বের কাছে দিবালোকের মত স্পষ্ট। তারপরও এমন একটি বিষয়ে একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সরকার ও মন্ত্রীর ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ’ বিষয় বলে মন্তব্য করা পুরো দেশবাসির জন্য লজ্জা। আমরা এসব বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।
সম্পাদক : কওমি ভিশন

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: