শিরোনাম
আরব-ইসরাইল সম্পর্কের প্রতিবাদে বাহরাইনে বিক্ষোভ চলছেই হাটহাজারীর ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশের ডাক দিলেন ভিপি নুর হাটহাজারিতে আবারো বিক্ষোভে ছাত্ররা, সব দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভকারীদের আনাস মাদানির বহিষ্কারসহ ৫ দফা দাবিতে উত্তাল হাটহাজারী মাদ্রাসা ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে আরব দেশের সম্পর্ক ফিলিস্তিনি জনগণ মেনে নেবে না সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বয়সে ৫ মাস ছাড় মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করলো যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার পূণর্ব্যক্ত করলো তুরস্ক সশস্ত্র লড়াইয়ের মাধ্যমেই কেবল ফিলিস্তিন মুক্ত হবে: হিজবুল্লাহ
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:২২ অপরাহ্ন
add

মাহে রমজান; বিজয়ের চেতনায় প্রদীপ্ত হওয়ার মাস ; দ্বিতীয় পর্ব

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ মে, ২০২০
add

মূল : ড. রাগিব সারজানী


ভাষান্তর : হামেদ বিন ফরিদ


দ্বিতীয় পর্ব
সময় পেরিয়ে মুসলমানদের কাছে আসলো হিজরী ৫৩ সালের নতুন রমজান মাস। বিজিত হলো ভূমধ্যসাগরের রোডস দ্বীপ। বিখ্যাত সাহাবী হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাজি. ইয়ামানের ‘আজদ’ গোত্রের জুনাদা ইবনে আবী ওমাইয়া আজদিকে এই দ্বীপ জয়ের লক্ষ্যে প্রেরণ করেন। সমুদ্র সমর অনেক কষ্টের কাজ হওয়া সত্ত্বেও মুসলমানরা এই যুদ্ধযাত্রাকে রমজানের পর পর্যন্ত বিলম্ব করেননি। হাদিসে আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “সমুদ্রপথের একটি জিহাদ স্থলপথের দশটি জিহাদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি সমুদ্র অতিক্রম করে সে যেন সমস্ত উপত্যকা অতিক্রম করে। আর সমুদ্র মাঝে যার মাথা ঘোরে, সে ব্যক্তি রক্তমাখা (মুজাহিদের) মত।” (অর্থাৎ এরা সওয়াবে সমান।) (হাকেম ২৬৩৪, সহীহুল জামে’ ৪১৫৪ নং)
ফলে তারা যুদ্ধকে বিলম্ব করেননি। কারণ, যুদ্ধে দেরি করতে নেই। আর মুসলমানরা সার্বক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে। ফলে তারা রমজান শেষ হওয়ার অপেক্ষা করেননি। রমজান মাসেই সমুদ্র সমরে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। আল্লাহর সাহায্যে ৫৩ হিজরির রমজান মাসে রোডস দ্বীপ মুসলমানদের করতলগত হয়ে যায়।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মুসলমানদের কাছে আগমন করে ৯১ হিজরির রমজান মাস। বিশাল স্পেন রাজ্য মুসলমানদের করায়ত্ত হওয়ার মাস। ৯১ হিজরীর রমজান মাসে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদের সেনাপতি মুসা বিন নুসাইর তুরাইফ বিন মালেককে স্পেনের রাস্তা আবিস্কারের জন্য পাঠান। তারপর ৯২ হিজরির রমজান মাসে তারেক বিন যিয়াদের কৌশলী নেতৃত্বে মাত্র ১২ হাজার মুসলিম সৈনিক রড্রিকের নেতৃত্বাধীন এক লক্ষ স্পেনীয় খ্রিস্টান ধর্মযোদ্ধার বিরুদ্ধে স্পেনের মাটিতে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। লাগাতার আটদিন কঠিন যুদ্ধ চলার পর মুসলমানদের জন্য স্পেনের ভূমিতে সূচিত হয় এক নতুন ইতিহাস। স্পেন ভূখণ্ডে মুসলমানদের ৮০০ বছরের গৌরবময় রাজত্বকালের শুভ সূচনা হয় ৯২ হিজরীর রমজান মাসে।
এরপর আসে হিজরি ৯৬ সালের রমজান মাস। এ বছর মুহাম্মাদ বিন কাসিমের হাতে অত্যাচারী সিন্ধু রাজা দাহির পরাজিত হয় এবং উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের শেষ আমলে সেখানে মুসলিম শাসন কায়েম হয়। এই বিজয় ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের প্রচার প্রসারের সূচনা করে।
২১২ হিজরির রমজান মাসে যিয়াদ বিন আগলাবের হাতে ইতালির সিসিলি দ্বীপ জয় হয়। ২২৩ হিজরির ৬ রমজান, রোববার আব্বাসি খলিফা মু‘তাসিম বিল্লাহ বাইজানটাইন সম্রাটকে পরাজিত করে আমুরিয়া জয় করেন। ৫৩২ হিজরীর রমজান মাসে ইমাদুদ্দিন জেনকি’র নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহর জয় করেন এবং খ্রিস্টান ক্রুসেডারদেরকে পরাজিত করেন। সিরিয়া তখন রোম সম্রাটের অধীন ছিল।
১১৮৭ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৫৮৩ হিজরির রমজান মাসে মিসরের সুলতান সালাহুদ্দিন ইউসুফ বিন আইউব বাইতুল মাকদিস উদ্ধারের লক্ষ্যে হিত্তিন ময়দানে পৌঁছেন এবং ১ লাখ ৬৩ হাজার খ্রিস্টান অশ্বারোহীকে পরাজিত করেন। মুসলিম বাহিনী জেরুজালেমের খৃস্টান রাজাকে বন্দী, ৩০ হাজার সৈন্য আটক ও অন্য ৩০ হাজার সৈন্যকে হত্যা করে বিজয় লাভ করেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক রমজানে নয় বরং রজব মাসে জেরুজালেম বিজয় হয় বলে উল্লেখ করেছেন।
৬৫৮ হিজরির সফর মাসে তাতারদের নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের ইসলামি খেলাফতের পতন হয়। ৬৫৮ হিজরির ২৫ রমজান মোতাবেক ১২৬২ খ্রিস্টাব্দে তাতারিদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের নাবলুস ও সিরিয়ার বিসানের মাঝামাঝি আইনে জালুত নামক স্থানে উপস্থিত হন। জাহের বাইবারস জেরুজালেমের ওপর তাতারিদের আক্রমণ প্রতিহত করে বায়তুল মাকদিসকে রক্ষা এবং তাদের মিসর অগ্রাভিযান প্রতিহত করেন। এই যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভ করেন।
জাহের বাইবারস ৬৬৬ হিজরীর রমজান মাসে তাতারদের কাছ থেকে তুরস্ক দখল করেন। রমজান মাসে মুসলমানদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে। ৭০২ হিজরী রমজান মাসে মিসরীয় বাহিনী তাতারদের আরেকটি অভিযানকে ব্যর্থ করে দেয় এবং দক্ষিণ দামেস্ক থেকে ১০ হাজার তাতার সৈন্যকে আটক করে।
দীর্ঘ তিন শতাব্দী যাবত খ্রিস্টানরা মুসলমানদের সাথে ক্রুসেডে লিপ্ত থাকে। পূর্ব বাইজাইনটাইন খৃষ্টান সাম্রাজ্য, স্পেন এবং পূর্ব আরব দেশসমূহে ঐ সকল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। স্পেনে মুসলিম শাসনের অবসানের পর বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন পুনরায় মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী করে তোলার প্রয়োজন দেখা দেয়। তুরস্কের উসমানি শাসক সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ দীর্ঘ ৫৯ দিন কনস্টান্টিনোপল অবরোধ করার পর তা জয় করেন। তিনি পবিত্র রমজানে ১৪০৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে বিজয়ীর বেশে কনস্টান্টিনোপল প্রবেশ করেন এবং তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত মসজিদ আয়াসুফিয়ায় নামায আদায় করেন। কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের কারণে বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, যুগোশ্লাভিয়া এবং অষ্ট্রিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামের প্রচার প্রসার শুরু হয়।
এভাবে ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে আমরা রমজান মাসে আরও বিজয়ের সন্ধান পাবো। যেমন : ২২২ হিজরির রমজানে খলিফা মু‘তাসিমের আমলে খোরাসানের ‘বাবাক’ শহর বিজয় হয়। ২২৩ হিজরির ৬ রমজান মু‘তাসিম বিল্লাহ’র নেতৃত্বে উমূরিয়্যাহ বিজয়, ৫৭০ হিজরির ১৪ রমজান সুলতান সালাহুদ্দিন আইউবি কর্তৃক শামের ‘বা‘লাবাক’ শহর বিজয় ইত্যাদি।
আমরা দেখলাম রমজানেই অর্জিত হয়েছে মুসলমানদের এক ঐতিহাসিক বিজয়ধারা। মুসলমানরা প্রায় সব ইসলামবিরোধী মতবাদ ও দলের বিরুদ্ধে রমজান মাসেই বিজয় লাভ করেছে। মূর্তিপূজারী মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদর ও মক্কা বিজয়। অগ্নিপূজক পারস্যের বিরুদ্ধে বুওয়াইবের যুদ্ধে বিজয়। আন্দালুসের বারবাত উপত্যকায় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জয়। সুলতান সালাহুদ্দিনের সাফেদ বিজয়। তাতারিদের বিরুদ্ধে আইনে জালুতে বিজয়। অনুরূপভাবে ১৩৯৩ হিজরির ১০ রমজান (৬ অক্টোবর ১৯৭৩ খ্রি.) মুসলমানরা এক মহান স্বাধীনতার বিজয় লাভ করে। সেটা হলো সিনাই উপদ্বীপের স্বাধীনতা লাভ। এসব ঘটনাপ্রবাহ থেকে বুঝা যায়, ত্যাগের মাস রমজান মুসলমানদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার মাস। বিজয়ের চেতনায় প্রদীপ্ত হওয়ার মাস। আশা-ভরসা, শক্তি-সাহস, বুদ্ধিমত্তায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার মাস। প্রতি বছর মাহে রমজান এসে এইসব বিজয়ের স্মৃতিগাঁথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, যাতে ঈমানদার-মুসলিম বিজয়ের সেই চিরায়ত ধারায় অব্যাহত থাকার প্রেরণা পায়।

মুহাদ্দিস ও সিনিয়র শিক্ষক : ইমাম মুসলিম রহ. ইসলামিক সেন্টার, কক্সবাজার।
খতিব : পশ্চিম মেরংলোয়া মুন্সিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ,রামু , কক্সবাজার।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: