শিরোনাম
জুমার মিম্বার থেকে বাবুনগরী : আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছেন, তবে ছেড়ে দেননি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ভারতের উদ্বেগ মসজিদ-মাদ্রাসা উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে মুফতি আজম আবদুচ্ছালাম চাটগামীর খোলা চিঠি রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরীর আহ্বান গ্রেফতার আতঙ্কে ঘর ছাড়া হাজারো আলেম, দুর্ভোগে পরিবার মসজিদ লক করার ইখতিয়ার কারো নেই : মুফতি সাখাওয়াত চিকিৎসা বিজ্ঞান মতে রোজার অতুলনীয় উপকার, বিবিসির প্রতিবেদন পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে, কাল রোজা ইসলামাবাদীসহ গ্রেফতারকৃত হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে : আমীরে হেফাজত  আল্লামা শফীর ইনতিকাল স্বাভাবিক, পিবিআইয়ের রিপোর্ট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার : হেফাজত আমির
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৬:০১ অপরাহ্ন
add

মুহাররমের পরিচয়, আশুরার তাৎপর্য এবং যাবতীয় বিধিবিধান

আবু জোবায়ের
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
add

মুহাররম, একটি সম্মানিত মাস। বরকতময় মাস। চারটি সম্মানিত মাসের একটি এই মাস। এ মাসে পৃথিবীর বহু ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আশুরা এ মাসের ফজিলত পূর্ণ একটি দিন। এ দিনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কুদরত প্রকাশ করেছেন। বনি ইসরাইলের জন্য সমুদ্রে রাস্তা বের করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে নিরাপদে পার করে দিয়েছেন। আর একই রাস্তায় ফেরাউন ও তার অনুসারীদেরকে ডুবিয়ে মেরেছেন। [সহীহ বুখারী ১/৪৮১]

মুহররম ও আশুরা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহররম মাসে রাখ। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্য জাতির তওবা কবুল করবেন।’ [জামে তিরমিযী ১/১৫৭]

এ মাসে নফল রোজা এবং ইস্তিগফারের আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। গুনাহ মাফ করার জন্য এ মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি মহা অনুগ্রহ। এ মাস যেন অলসতা ও হেলায়-ফেলায় কেটে না যায়। এ মাসে যথাসম্ভব বেশি ইবাদত করার পাশাপাশি গুনাহ থেকে বেঁচেও থাকতে হবে। কারণ, এ মাসে কৃত পাপ ও অপরাধ অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি মারাত্মক ও ভয়াবহ বলে গণ্য হবে।

মুহররমের কোন দিনটি আশুরা?

ইবনু কোদামাহ (রহ.) বলেন, আশুরা মুহররম মাসের দশম দিন। এটি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব ও হাসান বসরি (রহ.)-এর মত। কারণ, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরা-মুহররমের দশম দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।” [উল্লিখিত হাদিসটি হাসান সহিহ]

আশুরার রোজার ফজিলত

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রোজা রাখার জন্য এত অধিক আগ্রহী হতে দেখিনি যত দেখেছি এই আশুরার দিন এবং এই মাস অর্থাৎ রমজান মাসের রোজার প্রতি।“ [বোখারি: ১৮৬৭]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: “আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।” [সহিহ মুসলিম:১৯৭৬]

আশুরার রোজায় কোন ধরণের গুনাহ মাফ হবে?

শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘পবিত্রতা অর্জন, সালাত, রমজান, আরাফা ও আশুরার রোজা ইত্যাদি কেবল সগিরা গুনাহসমূহের কাফ্ফারা অর্থাৎ এসব আমলের কারণে কেবল সগিরা গুনাহ ক্ষমা করা হয়।‘ [আল-ফাতাওয়াল কোবরা, ৫ম খন্ড]

অতএব গুনাহ মাফের ছাড় পেয়ে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। ভাবা যাবেনা— সারা বছর গুনাহ করেও কেবল আশুরার রোজা রেখেই পার পাওয়া যাবে। বরং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এরপরও যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন সগিরা গুনাহ হয়ে যায় তবে আল্লাহ তাআলা এ জাতীয় আমলের প্রতিদানে ক্ষমা করে দিবেন। কিন্তু কবিরা গুনাহের জন্য খাঁটি তওবা ছাড়া মাফ পাওয়া যাবে না।

আশুরায় কয়টি রোজা রাখতে হবে?

প্রকৃত সুন্নাত হলো, আশুরার আগের দিন ৯ মুহররম বা পরের দিন ১১ মুহররমের সাথে মিলিয়ে মোট ২ দিন রোজা রাখা।

আশুরার রোযা সম্পর্কে এক হাদীসে আছে যে, ‘তোমরা আশুরার রোযা রাখ এবং ইহুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে; আশুরার আগে বা পরে আরো একদিন রোযা রাখ।’

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে ৯ তারিখেও অবশ্যই রোযা রাখব।’ [সহীহ মুসলিম: ১/৩৫৯]

এসব হাদিসের আলোকে আলেমদের মন্তব্য হচ্ছে, আশুরার রোজার সর্ব নিম্ন স্তর হচ্ছে কেবল দশ তারিখের রোজা রাখা। এরচে উচ্চ পর্যায় হচ্ছে তার সাথে মিলিয়ে নয় বা এগার তারিখের রোজা রাখা। এমনিভাবে মুহররম মাসে রোজার সংখ্যা যত বেশি হবে মর্যাদা ও ফজিলতও ততই বাড়তে থাকবে।

আশুরায় উদযাপিত কিছু বিদআত

শায়খুল ইসলাম ইবনু আইমিয়া (রহ.) বলেন, আশুরার দিন লোকেরা সুরমা লাগানো, গোসল করা, মেহেদি লাগানো, মুসাফাহা করা, খিচুড়ি রান্না করা, আনন্দ উৎসবসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির যে আয়োজন করে থাকে— তা সবই বিদআত।

কারণ, এসব অনুষ্ঠানাদি উদযাপন প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি এবং সাহাবাদের থেকেও না। চার ইমামসহ নির্ভরযোগ্য কোনো আলেমও এসব কাজকে সমর্থন করেননি। কোনো মুহাদ্দিস এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ ও সাহাবাদের থেকে কোনো সহিহ কিংবা জয়িফ হাদিসও বর্ণনা করেননি। পরবর্তী যুগে কেউ কেউ কিছু বানোয়াট ও জাল হাদিস বর্ণনা করার মাধ্যমে এসব বিদআত চালু করেছেন।

 

মোটকথা, মুহররম ও আশুরা উপলক্ষে তওবা- ইস্তেগফার, নফল রোযা এবং অন্যান্য নেক আমলের প্রতি যত্নবান হতে হবে এবং সব ধরনের কুসংস্কার ও রসম-রেওয়াজ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহজ করে দিন।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: