শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে সৌদিআরব অবশেষে ৩ অক্টোবর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বেফাকের বিতর্কিত মহাসচিব আবদুল কুদ্দুস ৭১ টিভিতে আমাকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে; ক্ষমা না চাইলে মামলা করব : কারী রিজওয়ান আরমান জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার সমস্ত শয়তানি কার্যক্রমের উৎস হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা: হুথি আনসারুল্লাহ হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীকে কটূক্তি; শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগে করা হচ্ছে মামলা ভারতের সঙ্গে কষ্টে গড়া সম্পর্ক ছোট্ট পেঁয়াজে নষ্ট হচ্ছে: সংসদীয় কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাতৃভাষা দিবস চালুর চেষ্টায় বিজেপি আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর মাগফিরাত কামনায় রংপুরে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
add

রমজানের প্রস্তুতিমূলক কিছু আমল

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
add

আবু নাসের ইকবাল


দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজান হলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। মুমিনের জন্য ইবাদতের মৌসুম। আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য অর্জনের বসন্তকাল। বরকতময় এ মাসে আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। তাই রমজানকে সামনে রেখে আমাদের পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত, যেন তার একটি মুহূর্তও হেলায় ফেলায় নষ্ট না হয়।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। তিনি শাবান মাস থেকেই খুব সতর্ক হয়ে যেতেন। রমজানের লক্ষ্যে দিনক্ষণ গণনা শুরু করতেন। কখন রমজান আগমন করবে, সেই প্রতিক্ষায় থাকতেন।

হজরত আয়েশা (রাদি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের (দিন-তারিখের হিসাবের) প্রতি এত অধিক লক্ষ্য রাখতেন, যা অন্য মাসে রাখতেন না। (আবু দাউদ: ২৩২৫)

সর্বোত্তম যুগ থেকে শুরু করে আমাদের নিকট অতীতের মণীষীরাও রমজানকে সামনে রেখে আগাম সতর্ক হয়ে যেতেন। পূর্বপ্রস্তুতি নিতেন। আমলের প্রতি আরও যত্নশীল হতেন। তাদের প্রস্তূতিমূলক আমলগুলোর অন্যতম কয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি—

১. দুআর মাধ্যমে প্রস্তুতি 

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানকে সামনে রেখে একটি দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। আমরাও দোয়াটি পড়ব। হাদিসে এসেছে— আনাস (রাদি.) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাস আসলে এ দু‘আ পড়তেন, “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।’’
অর্থ: ‘‘হে আল্লাহ! রজব ও শা‘বান মাসের (‘ইবাদাতে) আমাদেরকে বারাকাত দান করো। আর আমাদেরকে রমাযান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন।” (বায়হাকী: ৫২৯, শু’আবুল ঈমান: ৩৫৩৪)

২. তাওবার মাধ্যমে প্রস্তুতি 

জীবনের সব ধরনের গুনাহ থেকে তওবা করুন। বিশেষ করে করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে। আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের গোনাহের শাস্তিস্বরূপ এ জাতীয় মহামারী পাঠান। তাই সবারই তাওবা করে আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসা দরকার। এছাড়াও তাওবা করলে রমজানে পবিত্র মন ও প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে ইবাদতে মশগুল হতে পারবেন। ইবাদতগুলো হবে শানদার ও বরকতপূর্ণ। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! আল্লাহ তা’আলার নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর : ৩১)।

৩. তিলাওয়াতের মাধ্যমে প্রস্তুতি

মহিমান্বিত রমজান মাস। কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসেই মহাগ্রন্থ কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এ মাসের আগমনে মনে খুশি ও আনন্দ অনুভব করুন এবং এ মাসে বেশি-বেশি কোরআন পাঠের প্রস্তুতিস্বরূপ এখন থেকেই কোরআন তেলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৪. ব্যক্তিগত প্রস্তুতি 

রমজান আল্লাহ তা’আলার সান্ন্যিধ্য অর্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। এ মাসে বাকি ১১ মাসের কৃত পাপকাজ থেকে ফিরে আসাটা সহজ হয়ে থাকে। তাই জীবন পরিবর্তনের এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবেই রমজান আগমন করছে। সুতরাং রমজানকে গতানুগতিক ধারায় কাটিয়ে দেওয়া সুস্থ বিবেকের কাজ নয়।

রমজানকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে চাইলে ব্যক্তিগত কিছু কাজ আগেই সেরে ফেলতে হবে। এ জন্য দরকার সুন্দর পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনায় নিম্নোক্ত কয়েকটি জিনিস থাকতে পারে—

(ক) রমজানে বেশি সময় ইবাদতে কাটানোর জন্য অনুষ্ঠান,  আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ এবং খোঁজখবর নেওয়া ইত্যাদি কাজ রমজান-পূর্ব সময়ে সেরে নিন। আর এখন যেহেতু করোনার কারণে লকডাউন চলছে, তাই এ সময় ঘর থেকে বেরোনো উচিত নয়। নিজেকে সেফ রাখুন। ঘরের ভেতর থেকেই সাধ্যমত প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিন।

(খ) বিশেষ কোনো রোগব্যাধি থাকলে আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রমজানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করুন।

(গ) হাট-বাজারে যেন বেশি সময় দিতে না হয়, সেজন্য যথাসম্ভব প্রয়োজনীয় কেনাকাটা রমজানের আগেই সেরে নিন।

(ঘ) রমজানে পালনীয় ইবাদত-বন্দেগি সংক্রান্ত বিধি-বিধান রমজানের আগেই জেনে নিন। যেন ইবাদতগুলো বিনষ্ট না হয়ে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘যদি তোমরা না জান তাহলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো।’ (সূরা আম্বিয়া : ৭)

৫. পারিবারিক প্রস্তুতি 

পরিবারের সদস্যবর্গ যেমন স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বসুন। তাদেরকে রোজার হুকুম-আহকাম ও মাসআলা- মাসায়িল শিক্ষা দিন। রমজান মাসের মর্যাদা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।

কাজের লোকদের প্রতি খেয়াল রাখুন। সদয় হোন। তাদের কাজের বোঝা হালকা করে দিন। করোনার এই দুর্দিনে গরিব, অসহায়দের বেশি বেশি দান-সদকা করুন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিন। যাতে তারাও রমজানে নিশ্চিন্ত মনে ইবাদতে মশগুল থাকতে পারে।

৬. সামাজিক প্রস্তুতি 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান-পূর্ব সময়ে সমাজের লোকদের রমজান আগমনী বার্তা দিতেন। রমজানের সুসংবাদ জানাতেন এবং পাড়া-প্রতিবেশীসহ সবাইকে রোজা রাখার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাই আপনিও আশেপাশের মানুষদের রমজান সম্পর্কে সচেতন করুন।

রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এ মাস আসার আগেই সামাজিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সবাই মিলে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। সবারই খেয়াল রাখা উচিত, নিজের দ্বারা যেন কোনো রোজাদার ভাইয়ের ক্ষতি না হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন।


শিক্ষার্থী: হাটহাজারী মাদ্রাসা

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: