শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ওমরাহ পালনের অনুমতি দেবে সৌদিআরব অবশেষে ৩ অক্টোবর পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বেফাকের বিতর্কিত মহাসচিব আবদুল কুদ্দুস ৭১ টিভিতে আমাকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করা হয়েছে; ক্ষমা না চাইলে মামলা করব : কারী রিজওয়ান আরমান জাতিসংঘের কি আদৌ প্রয়োজন আছে? সীমান্ত এলাকাকে আবারো অশান্ত করছে মিয়ানমার সমস্ত শয়তানি কার্যক্রমের উৎস হচ্ছে ইসরাইল-আমেরিকা: হুথি আনসারুল্লাহ হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীকে কটূক্তি; শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগে করা হচ্ছে মামলা ভারতের সঙ্গে কষ্টে গড়া সম্পর্ক ছোট্ট পেঁয়াজে নষ্ট হচ্ছে: সংসদীয় কমিটি ২১শে ফেব্রুয়ারি নয়, পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাতৃভাষা দিবস চালুর চেষ্টায় বিজেপি আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর মাগফিরাত কামনায় রংপুরে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
add

রোজা ও রমজানের প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২০
add

আবু জোবায়ের


রমজান এলে আমরা নতুন প্রাণ সঞ্জীবনী নিয়ে ইবাদতের মহান মিছিলে শামিল হই। আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিকতার নতুন জাগরণে জেগে ওঠি আমরা। আমরা নিজেদেরকে ধৈর্য্য ও তাকওয়ার পবিত্র বৈশিষ্ট্যে বিনির্মাণ করি এবং উদর ও রিপুর নগ্ন দাবিকে উপেক্ষা করে চলি। যার ফলে মহান রবের সাথে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক ও সান্নিধ্য গড়ে তুলার সুবর্ণ এক সুযোগ তৈরি হয়।

তবে রোজার এ-পরিপূর্ণ ফায়দা আমরা তখনই পাব যখন আমরা রোজার লক্ষ্যপরিপন্থী সকল কাজ থেকে বেঁচে থাকব। রোজা ও রমজান মাস নিয়ে আমাদের মধ্যে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে, যেগুলো কখনো পরিপূর্ণ আত্মিক উৎকর্ষতা সাধনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এখানে এমন কিছু ভুল ধারণা উল্লেখ করছি—

১. ফজরের আজান পর্যন্ত সাহরি খাওয়া:
অনেকে মনে করে, ফজরের আজান পর্যন্ত সাহরি খাওয়া যায়। এজন্য তারা সাহরির শেষ সময়ের প্রতি লক্ষ্য না রেখে আজান পর্যন্ত খেতে থাকে। এটি একটি ভুল ধারণা। এভাবে আজান পর্যন্ত সাহরী খেলে রোজা না হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সাহরীর শেষ সময় হচ্ছে সুবহে সাদিক শুরুর আগ পর্যন্ত। আর সুবহে সাদিক শুরু হবার ৪-৫ মিনিট পরই সাধারণত আজান দেয়া হয়। সুতরাং এই ৪-৫ মিনিট সময়ের মধ্যেও সাহরি খাওয়া যাবে না। আবার অনেককে আজান পর্যন্ত সময় পান খেতে দেখা যায়। পান মুখে দিয়ে আজান পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকলে রোযা হবে না। (শামী:২/৪০৫, উসমানী:২/১৮৬)

২. মসজিদের আজান শুনে ইফতার গ্রহণ:
কেউ কেউ মনে করে, মুয়াজ্জিন মাগরিবের আজান না দেওয়া পর্যন্ত ইফতার গ্রহণ করা যাবে না। এটিও একটি ভুল ধারণা। ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে একজন ব্যক্তি ইফতার গ্রহণ করে তার রোজা ভাঙতে করতে পারে।

৩. ভুলক্রমে পানাহার:
অনেকেই মনে করে, কেউ যদি ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেলে বা পান করে ফেলে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভুল ধারণা। রোজা রাখা অবস্থায় কেউ যদি ভুলে কিছু খেয়ে ফেলে  তবে তার রোজা ভঙ্গও হবেনা বা তাকে তার কোনো ক্ষতিপূরণও দিতে হবেনা।

৪. থুথু গিলে ফেলা:
অনেকেই মনে করে, রোজা রাখা অবস্থায় মুখের থুথু গিলে ফেলা যায়না। এটিও একটি ভুল ধারণা। তবে মুখে থুথু জমে গেলে বা মুখে কফ আসলে তা ফেলে দেওয়াই উত্তম।

৫. স্বপ্নদোষ হওয়া:
কেউ কেউ মনে করে, রোজা অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। স্বপ্নদোষের কারণে রোজা ভাঙে না। একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনটি বস্তু রোযা ভঙ্গের কারণ নয়; বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ। (জামে তিরমিযী, হাদীস: ৭১৯; সুনানে বাইহাকী ৪/২৬৪)

৬. পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করা:
অনেকেই রোজা রেখে দাঁত পরিষ্কার করার জন্য পেস্ট, টুথ পাউডার ব্যবহার করে। এটা অনুচিত। কারণ, রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় টুথ পাউডার, পেস্ট, মাজন ইত্যাদি ব্যবহার করা মাকরূহ। কিন্তু তা গলায় পৌঁছালে রোজা ভেঙে যাবে। (জাদিদ ফিকহি মাসায়েল)
তবে মিসওয়াক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস থেকেই প্রমাণিত যে, তিনি রমজানে রোজা রাখা অবস্থায় মিসওয়াক করতেন।

৭. সুগন্ধী ব্যবহার:
কেউ কেউ বলে, রমজানে রোজা অবস্থায় সুগন্ধী বা তেল ব্যবহার করা যায়না। এটিও সম্পূর্ণরূপে ভুল ধারণা।

৮. স্ত্রীর সাথে মেলামেশা:
অনেকেই ভাবে, রমজানের পুরো মাসব্যাপী স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া নিষেধ। এটি একটি অমূলক ভাবনা। রোজা রাখা অবস্থায় সহবাস নিষিদ্ধ হলেও রোজার সময় শেষ হওয়ার পর ইফতারি পরবর্তী সময় থেকে সাহরীর সময় শেষ হওয়ার পূ্র্ব পর্যন্ত সহবাস করার অনুমতি রয়েছে।

৯. রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত:
অনেকেই মনে করে, রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরী। প্রচলিত আরবী নিয়ত পড়তে হবে অথবা ‘আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করছি’ বলতে হবে, অন্যথায় রোজা সহীহ হবে না। এ ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরি নয়; বরং অন্তরে রোজার সংকল্প করাই যথেষ্ট। এমনকি রোজার উদ্দেশ্যে সাহরী খেলেই রোযার নিয়ত হয়ে যায়।

১০. ২৭ রমজানে শবে কদর:
অনেকেই মনে করে, সাতাশের রাতই হচ্ছে শবে কদর। এই ধারণা ঠিক নয়। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান কর। (সহিহ বুখারী, ২০১৭) তাই সাতাশের রাতকেই সুনির্দিষ্টভাবে লাইলাতুল কদর বলা উচিত নয়। খুব বেশি হলে এটুকু বলা যায় যে, এ রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার অধিক সম্ভবনা রয়েছে।

১১. রোজাদারের খাবারের হিসাব হবে না:
কোনো কোনো মানুষ বলে, রোজাদারের খাবারের কোনো হিসাব হবে না। এটি একটি ভুল কথা। এ কথার উপর ভিত্তি করে রমজানে তারা খাবার অপচয়ের প্রতিযোগিতায় নামে। অথচ কুরআন ও হাদিসে এমন কোনো কথা নেই যে, রোজাদার যদি খাবারের অপচয় করে তাহলে তার কোনো হিসাব হবে না। যে ব্যক্তিই খাবার অপচয় করুক, পরকালে তাকে এর হিসাব দিতে হবে।

১২. রমজান যাকাত আদায়ের মাস:
কিছু মানুষ মনে করে, যাকাত শুধু রমজান মাসেই দিতে হয়। অন্য মাসে যাকাত দিলে তা আদায় হয়না। এ ধারণা ঠিক নয়। নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর আরবী এক বছর অতিবাহিত হলেই সেই সম্পদের যাকাত দেওয়া ফরয। যাকাত ফরয হওয়ার পর দ্রুত আদায় করা উচিত। কিন্তু কেউ কেউ যাকাত রমজান মাসের অনেক  আগে ফরয হলেও, তারা তখন আদায় করে না; বরং রমজানের অপেক্ষা করতে থাকে। এমন করা আদৌ উচিত নয়। বরং গরীবের পাওনা যত দ্রুত আদায় করা যায় ততই উত্তম।

১৩. সফরে রোজা ভাঙা জায়েয:
কেউ কেউ ধারণা করে: ‘সফরে রোজা ভাঙা জায়েয আছে।’ এ ধারণাটি ঠিক নয়। কেননা, সফরে রোজা আরম্ভ করার পর তা ভেঙে ফেলা কিংবা রোজা শুরু করার পর সফরে রওয়ানা হলে তা ভেঙে ফেলা জায়েয নয়। হ্যাঁ, সফরে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে, তবে রেখে ভেঙে ফেলার নয়; না রাখলে পরে এই রোজার কাযা আদায় করতে হবে।

১৪. রোজা রেখে চিকিৎসা গ্রহণ:
অনেকে ধারণা করে, রোজা রেখে চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে না। তাদের এ ধারণাটি ভুল। রোজা রেখেও বেশ কিছু চিকিৎসা গ্রহণ করা যায়। যেমন, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ ,ইনজেকশন ইত্যাদি।
তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলোর কারণে রোজা ভেঙে যায়। সাহরির আগে ও ইফতারির পরে তা খেতে হবে।

১৫. টিভি দেখা ও গান শোনা:
অনেকেই মনে করে, রোজা রেখে টিভি দেখলে, গান শোনলে ও মেয়েদের ছবি দেখলে রোজা ভেঙে যায়। এটি একটি ভুল ধারণা। যদিও কাজগুলো কবীরা গোনাহ পর্যায়ের। রোজার রূহানিয়্যাত এসব পাপের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না। কিন্তু রোজা মাকরূহ হয়ে যায়। দিনে বা রাতে কখনোই উপরোক্ত কাজগুলো করা বৈধ নয়।

১৬. ফরজ গোসল না করে সাহরী খাওয়া:
কেউ কেউ ধারণা করে, ফরজ গোসল না করে সাহরী খেলে রোজা হবে না। এটি সঠিক নয়। রোজা হয়ে হবে। কিন্তু ফজরের নামায ইচ্ছেকৃত কাযা করার কারণে কবীরা গোনাহ হবে। তাই নামাজের মত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের বিষয়ে অলসতা করা ঠিক হবে না।

এজাতীয় আরো অনেক ভুল ধারণা ও বিশ্বাসের নিগূঢ়ে বন্দি হয়ে আছি আমরা। বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনে বা আশপাশের অন্যান্য লোকদেরকে দেখে আমরা এ ভুল ধারণাগুলোই সঠিক মনে করে মনে গেঁথে নিয়েছি। আমরা অনেকেই কখনো সেগুলো আলেমদের কাছে গিয়ে যাচাই করার প্রয়োজন মনে করিনি। এটি একটি ভুল কর্মপন্থা। ধর্মীয় বিষয়ে কোন কিছু বিশ্বাস ও আমল করার আগে আলেমদের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। আল্লাহ তা’আলা আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন!

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: