শিরোনাম
সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলো হিজামা হেল্পলাইন কর্তৃক আয়োজিত ফায়ার কাপিং কর্মশালা মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি কুচক্রি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে মাদরাসায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে : আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী  ফটিকছড়িতে কওমি মাদ্রাসায় মাজারপন্থীদের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদি হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত পুলিশকে গুণ্ডা ও মাস্তানের ভূমিকায় দেখতে চাই না, এসপিকে বরখাস্ত করুন : ইসলামাবাদী মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হেফাজত ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজত আল্লামা শফীর মৃত্যুকে ইস্যু করে বরেণ্য আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা: নিন্দা জানিয়ে শীর্ষ ২৮ উলামা-মাশায়েখের বিবৃতি দেশের বিশিষ্টজনদের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বললেন ইসি শাহাদাত
মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:১১ অপরাহ্ন
add

সময়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
add

আবু জোবায়ের



সত্যের আহ্বানে সদা জাগ্রত বীর– আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। নতুন করে তাঁর পরিচয় তুলে ধরার কোন প্রয়োজন নেই। আগে থেকেই তিনি সুপরিচিত। তিনি এদেশের তৌহিদি জনতার হৃদস্পন্দন। সাহসের প্রতীক। আশার আলো। প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আলেম। দাঈ। ইতিহাসবিদ। কবি। লেখক।  আধ্যাত্মিক রাহবার। বাতিলের বিরুদ্ধে সাহসী বীর। তিনি দৃঢ়তায় পরিপুষ্ট। ঈমানী চেতনায় বলিয়ান। সংস্কার মানসে শক্তিমান। দূরদর্শিতায় চতুর। উম্মাহর কল্যাণকামিতায় সিক্ত।

তিনি হাটহাজারীর শাইখুল হাদীস ও হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব- এর আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় তাঁর আরেকটি মহান পরিচয়– তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক। উস্তাদে মুকাওয়িম। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি প্রিয়, অনন্য ও শ্রেষ্ঠ একজন শিক্ষক। তাঁর দরসে শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। হাটহাজারীর সুবিশাল, সুপরিসর দরসগাহও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। হাজারো ছাত্র চাতক পাখির মতো  তাকিয়ে থাকে এক অনির্বাণ আলোর উৎস পানে। যেখান থেকে বিচ্ছুরিত হয় হেরার আলো।

তিনি আমার শায়খ ও মুরুব্বি। আমি তার সরাসরি ছাত্র। নিয়মিত ধন্য হই তাঁর সান্নিধ্য-পরশে। শুনি তাঁর পাক জবানের কতো কথা, কতো বাণী। যখনই তাকে দেখি— বিমুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রই। তিনি আমার আদর্শ।চলনে-বলনে-সাহসিকতায়।

আমি তাঁর কিতাবের ছাত্রও। আমি বারবার উপকৃত হই তাঁর কিতাব থেকে। তাঁর কিতাবের স্বাদই ভিন্ন। তাঁর লেখার মজাই আলাদা। তাঁর একেক লেখার একেক মজা। তাঁর প্রতিটি কিতাব ও লেখা দায়িত্বপূর্ণ ও দরদভরা, চিন্তা ও পাথেয় সমৃদ্ধ। তাঁর কিতাব সর্বমহলে সমাদৃত‌।

আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন বহুমুখী প্রতিভা, নৈপুণ্য ও দক্ষতা এবং কুরআন ও হাদীসের সঠিক স্বাদ আস্বাদনের অদ্ভুত ও বিস্ময়কর যোগ্যতা। আরবী ভাষা ও সাহিত্যেও আছে তাঁর উল্লেখযোগ্য দখল রয়েছে। যেগুলো তাঁকে দরসের ময়দানে শীর্ষ অবস্থান ও শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছে। তাঁর বিশেষ কিছু গুণ-

  •  বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা।
  •  সাহিত্য প্রতিভা।
  •  জীবন্ত হৃদয়।
  •  উন্নত চরিত্র।
  •  বিশুদ্ধ আকিদা।
  •  দূরদর্শী চিন্তা।
  •  অদম্য সাহস।

তাঁর দরস অন্যদের দরস থেকে অনেকটাই আলাদা।  ব্যতিক্রমী। তিনি কারও ফটোকপি নন। অন্যের অনুকরণ বা গতানুগতিকতার অনুসরণ করেন না। তার সবকিছুতেই অনন্যতা, নতুনত্ব ও বিরলতা থাকে। তিনি তাঁর জাদুকরী তাকরিরে সবার আকল-বুদ্ধি ও হৃদয়-মনকে বন্দী করে ফেলেন। নিজের চিন্তা-ভাবনা ও আবেগকে অন্যদের মধ্যে স্থানান্তর করার এক বিরল গুণ রয়েছে তাঁর।

তাঁর পাঠদান কখনোই রসহীন হয় না। তিনি ক্লাসের সবাইকে উদ্দীপ্ত ও উজ্জীবিত রাখেন। তাঁর সুন্দর বাচনভঙ্গি, সুবিন্যস্ত ও সুস্পষ্ট আলোচনা, বোঝানোর কৌশল, সহজতম পাঠদান পদ্ধতি এবং জীবন-জগত, বর্তমান-ভবিষ্যত, চরিত্র-সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে সময়োপযোগী নির্দেশনা একজন শিক্ষার্থীকে দরসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চুম্বকের মত ধরে রাখে।

তিনি তাকরিরের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধা, স্মরণশক্তি, বৃদ্ধিবৃত্তি ও ধারণক্ষমতার তারতম্যকে বিবেচনায় রাখেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন স্বভাব, বিভিন্ন প্রকৃতি ও বিভিন্ন মন-মেজাযের শিক্ষার্থীর আবেগ-অনুভূতি ও মানসিক গতিপ্রকৃতিও উপলব্ধি করতে পারেন। ফলে তিনি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তাকরির করে থাকেন। যা সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।

তিনি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ ও সহজ থেকে কঠিন এই ক্রমানুসারে, পর্যায়ক্রমিতা রক্ষা করে দরস দেন। কখনোই শিক্ষার্থীর জ্ঞানের স্তর থেকে উপরে উঠে কথা বলেন না। ফলে তাঁর দরস শিক্ষার্থীদের জন্য কোন জটিলতা সৃষ্টি করে না বরং তা সহজ ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

তাঁর উপস্থাপনা সবসময়ই বাস্তবমুখী। কেননা, ইসলাম কোন অবাস্তব দর্শন নয়। বরং তাঁর প্রতিটি তথ্য ও বিষয় বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তিনি কুরআন ও হাদীসের প্রত্যেকটা বিষয়কেই বিভিন্ন উপমা, উৎপ্রেক্ষা, ঘটনা ও ইতিহাস বর্ণনার মাধ্যমে বাস্তবমুখী করে তুলেন। যাতে করে সবার জন্য ইসলামের প্রত্যেকটা তত্ত্ব ও তথ্যগুলোর বাস্তবতা ও কার্যকরিতা উপলব্ধি করা ও বোধগম্য করা সহজ হয়।

তাঁর একটি অদ্ভুত বিস্ময়কর যোগ্যতা হলো, নিজের আবেগ- অনুভূতি ও চিন্তা-চেতনার সাথে শিক্ষার্থীদেরকে একীভূত করে নেন। যে কিতাবই তিনি পড়ান, তা পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মন-মানসের গভীরে মিশে যান— যা একেবারে রক্ত-মাংসের ন্যায়।

তাঁর দরসে প্রবাহিত হয় পরম্পরাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের স্বচ্ছ ধারা, সালফে সালেহীনদের গৌরবময় ঐতিহ্য ও পরবর্তীদের জ্ঞান-গবেষণা। তিনি তাঁর দরসে বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা ও সংস্কৃতির নির্মোহ আলোচনা ও যৌক্তিক সমালোচনা করেন। যার ফলে তাঁর দরস হয়ে ওঠে কুরআন, হাদীস, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও গবেষণার মিলনমোহনা।

তাঁর দরসের বিশেষ দিক

ক. দীনি চেতনার প্রাণ সঞ্চার করা। উম্মাহর সত্ত্বা-জুড়ে যে ভীরুতা ও কাপুরুষতা এবং যে হীনমন্যতা ও মানসিক দৈন্যতা বিরাজ করছে, তা বদলে দিয়ে জিহাদী চেতনা ও বীরত্বের প্রেরণাকে জাগিয়ে তোলা।

খ. পাশ্চাত্যের বস্তাপঁচা মতবাদ ও বস্তুবাদী নগ্ন সভ্যতার যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক সমালোচনা।

গ. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ও বিভিন্ন বাতিল ফিতনার মুখোশ উন্মোচন।

ঘ. বুদ্ধিবৃত্তিক ধস প্রতিরোধ করা। যার ভয়াবহতা ব্যাপক আকারে এবং বিপজ্জনকভাবে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলছে কওমী অঙ্গনে।

ঙ. অতীতের মুসলিম উম্মাহর ভূমিকা ও অবদানের সঠিক ইতিহাস ও জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান।

চ. যুগ সচেতন আলেম ও আল্লাহওয়ালা দাঈ তৈরি করা।

তাঁর দরসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য

১. তিনি হাদীসের তরজমা খুবই সহজ ও সাবলীল ভাষায় এমনভাবে করেন যাতে তার অর্থ ও মর্মে কোন অস্পষ্টতা না থাকে এবং ইখতেলাফি মাসায়েলের আলোচনাও যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করেন, কিন্তু তাঁর দক্ষতায় তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।

২. জটিল থেকে জটিলতর বিষয় তিনি অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে ও সংক্ষিপ্ত সময়ে শিক্ষার্থীদের জেহেনে বসিয়ে দেন। তাঁর কিতাবের কোন বিষয় বা অধ্যায়ই কঠিন ও জটিল মনে হয় না।

৩. সাধারণত অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা এবং বিভিন্ন সূক্ষ্ম বিষয়াদি বর্ণনা থেকে বিরত থাকেন। কিতাব হল করার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। তাঁর মূল দৃষ্টি থাকে কিতাব ও বিষয়ের আসল উদ্দেশ্যের প্রতি এবং শিক্ষার্থীদেরও সে দিকে মনোযোগী করেন।

৪. তাঁর দরসে আলোচনায় প্রাসঙ্গিক যুগ সমস্যার সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেন। ফলে শিক্ষার্থীরা সবকের পড়াকে সময়, সমাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করে। ফলে তাদের মধ্যে দরসে উপস্থিতি ও সবক হল করার গুরুত্ব বেড়ে যায়।

৫. সবকের মধ্যে কোন কিতাবের উদ্ধৃতি বা আলোচনা আসলে তিনি সংক্ষেপে সে কিতাবের পরিচিতি তুলে ধরেন, যাতে শিক্ষার্থীদের মাঝে তা মোতালাআর বিশেষ ঝোঁক সৃষ্টি হয়।

৬. আরবীকে একটি ভাষা হিসেবে শেখার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন। যেন আরবীতে বলা ও লেখার ক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।

দরসে তিনি জবানকে সংযত রাখেন। কখনো কাউকে আঘাত করে কথা বলেন না। কারও দোষ খুঁজে বেড়ানো তাঁর কাছে ভীষণ অপছন্দের। কিন্তু তাই বলে সত্য-বিকৃতি তিনি মোটেই বরদাশত করেন না। যে কোন সত্য-বিকৃতির কঠোর সমালোচক তিনি। তিনি ভারসাম্যপূর্ণ সমালোচনা করেন ব্যক্তির, দলের, দৃষ্টিভঙ্গির ও প্রশাসনের। কিন্তু এই সমালোচনায় নেই হীন মানসিকতা, নেই হিংসার বহ্নি ও বিদ্বেষের আঁধার উদগীরণ।

তিনি সব সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কোমল ও সহজ আচরণ করেন। তবে প্রয়োজনে কিছুটা ক্রোধ বা বিরক্তিও প্রকাশ করেন; কিন্তু সেটা সাময়িক সময়ের জন্যে। কিছু ছাত্রের ওপর করা গোস্বা বা বিরক্তির প্রতিক্রিয়া কখনোই অন্য সব ছাত্রের ওপর প্রকাশ করেন না এবং তা কোনোভাবেই ক্লাসের শেষ সময় পর্যন্ত বা পরবর্তী সময় পর্যন্ত জিইয়ে রাখেন না।

তিনি মাদ্রাসায় সুস্থাবস্থায় আছেন অথচ দরসে উপস্থিত হননি— এমনটি আমরা কখনোই দেখিনি। তিনি দরসের মূল সময়ের বাইরেও প্রতিদিন ফজরের পর দরস দিতেন। দেখে বুঝা যেত— তিনি ক্লান্ত, অসুস্থ এবং কথা বলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে, তারপরও সবকে বিরতি দিতেন না।

তিনি প্রাচীন ও নতুনের মাঝে কোন পার্থক্যের দেয়াল তৈরি করেন না। বরং উপকারী যে কোনো নতুনকে গ্রহণ করেন। হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত ঈমান ও ব্যাপক-বিস্তৃত জ্ঞানের মাঝে সমন্বয় ঘটান। স্বকীয়তা ধরে রেখে, আধুনিক পদ্ধতি ও পন্থায় বিশ্ব মানবতার সেবায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে এ ক্ষেত্রে তিনি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং নীতি ও আদর্শের উপর অটল-অবিচল থাকাকেই সর্বাধিক প্রাধান্য দান করেন।

তিনি খুব কৌশলে শিক্ষার্থীদের মন-মানসে এই চিন্তার বীজ রোপণ করে দেন যে, এই একবিংশ শতাব্দীতে মুসলিম জাতীয় জীবনে ইসলামের প্রভাবকে বিস্তার, দৃঢ় ও শক্তিশালী করতে চাইলে প্রথমে ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে হবে। সমাজের বাঁকে বাঁকে তার সফল বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সমাজ-সভ্যতার প্রতি তীক্ষ্ণ ও সচেতন দৃষ্টি রাখতে হবে। মোকাবিলা করতে হবে দৃঢ়তার সাথে সময়ের সকল চ্যালেঞ্জকে।

এবং তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে সাহসিকতার সাথে একথাও বলেন, বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রে দিন দিন উলামায়ে কেরামের প্রভাব ও ভূমিকা কমে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে— চলমান জীবনধারা ও প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং উম্মতকে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রদানে ব্যর্থ হওয়া।

সুতরাং তাঁর দরস থেকে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে– একজন আলেম হিসেবে তার দায়িত্ব এবং জীবন জগতে তাঁর অবস্থান এবং তাদেরকে মানুষের সংশোধন, নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব এবং পৃথিবীর সকল দিগন্ত থেকে জুলুম ও অন্ধকার দূর করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক ঝোঁক ও মনোযোগের আধিক্যতাকে উপলব্ধি করেন এবং তাদের মধ্যে অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা ও সুপ্ত প্রতিভাকে মূল্যায়ন করেন।  এবং প্রত্যেককে তাঁর রুচির বেশি অনুকূল বিষয়ে দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জনের পরামর্শ দেন।

একজন শিক্ষার্থীর সামর্থ ও যোগ্যতার মূল্যায়ন তাকে অনেক এগিয়ে দেয়। শিক্ষার উন্নতির ক্ষেত্রে যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ও সাফল্যবোধ তাঁর মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে ও উৎসাহ বৃদ্ধি করে। এজন্য তিনি দরসে ও দরসের বাইরে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সামর্থ্যের স্বীকৃতি, সাফল্যের জন্য প্রশংসা ও পুরস্কারে গুরুত্ব দেন।

এভাবেই প্রতিবছর ইলমি যোগ্যতা, প্রজ্ঞা ও দীপ্ত জিহাদী চেতনায় তিনি গড়ে তুলেন এমন এক মোবারক জামাত, যারা বিশুদ্ধ আকীদা-বিশ্বাসে, আলোকিত চিন্তা-চেতনায়, গভীর জ্ঞান-প্রজ্ঞায় এবং ইসলামের দাওয়াত ও তাবলীগে অবিকল তাঁরই নমুনা হয়ে ওঠে।

মনস্তাত্ত্বিকভাবেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষালব্ধ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার ব্যবহারিক উপযোগিতা দেখতে চায়। আর এক্ষেত্রে তাঁরা সর্বপ্রথম তা শিক্ষকের বাস্তব ও ব্যবহারিক জীবনে অন্বেষণ করে। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমকালীন সবার ওপরে অবস্থান করবেন।

কারণ, তিনি দুনিয়ার প্রতি ভীষণ অনাসক্ত। পরকালই তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য, সর্বশেষ চাওয়া-পাওয়া। সম্পদের মায়ায় তিনি কখনো তাড়িত হোন না। যশ-খ্যাতি ও ক্ষমতার মোহও তাঁর কাছে কখনো সাড়া পায় না। বড়ো সাদাসিধে আল্লাহমুখী তাঁর জীবন।

তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করলে ঈমান তাজা হয়, আমল বাড়ে। কারণ, তিনি শুধু আল্লাহ, রাসূল ও দীন ইসলাম নিয়েই ভাবেন। আল্লাহর জন্যই সবকিছু করেন। এবং থাকেনও তিনি সব সময় আল্লাহর আশ্রয়ে, তাঁর গভীর সান্নিধ্যে। যার ফলে তাঁর জীবন হয়ে উঠেছে কুরআন ও হাদীসের উজ্জ্বল নমুনা এবং আকাবির ও সালফে সালেহীনদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

অবাক হই, যখন তরুণরা অতীতের মনীষীদের প্রতিও তাদের সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শনের জোয়াল কাঁধ থেকে নামিয়ে রাখছে, তখনো তিনি সবার হৃদয়ে দাপুটে রাজত্ব করে যাচ্ছেন। কারণ, তাঁর নিষ্ঠা ও বিশ্বাস সর্বপ্রকার সন্দেহমুক্ত এবং চিন্তা ও কাজের ক্ষেত্রে তিনি বিশ্বস্ত এবং ইসলামের জন্যে তাঁর সংগ্রাম ও সাধনা কোন প্রকার স্বার্থ ও বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত নয়। 

হুজুরের দরসে বসে-বসে, তাঁর চিন্তা-পরশে ধন্য হয়ে-হয়ে যা অনুভব ও উপলব্ধি করেছি– তা-ই লেখার চেষ্টা করলাম। তবে এই অনুভূতি শুধু আমার একারই নয়। তাঁর ইলমের সৌরভে সুরভিত যারা, তাঁর শিষ্যত্ত্বের সবুজ ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছেন যারা— তাদের প্রত্যেকের।

আল্লাহ তাআলা হুজুরকে আফিয়াতের সাথে সুদীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন! হুজুরের দীনি খেদমতকে আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত করুন! বাতিলের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন! আমৃত্যু হকের পক্ষে দৃঢ়পদ রাখুন! আমিন


শিক্ষার্থী : দারুল উলুম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

বিজ্ঞাপন

 

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

One response to “সময়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী”

  1. Numan says:

    আল হামদুলিল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: