শিরোনাম
ভারতে করোনা সরাতে শরীরে গোবর, রোগ বাড়ার আশঙ্কা, সতর্ক করলেন চিকিৎসকরা টিকা আনতে চীনে গেছে বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ আল আকসায় সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইয়াহুদিবাদীদের বিরুদ্ধে বিশ্বমুসলিম নেতৃত্বকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : পীর সাহেব চরমোনাই ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে হেফাজত কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে চালু হতে পারে গণপরিবহন ২৫ তারিখ থেকে সীমিত পরিসরে খুলছে দোকানপাট রমজানে আলেম-উলামা ও তৌহিদী জনতার উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ করুন : বাবুনগরী এবার আগফানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল জার্মানিও ওমানে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
add

হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর প্রতি বিশেষ আবেদন

কওমি ভিশন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১
add

আজ বুধবার (২১ এপ্রিল) ভিডিও লাইভের মাধ্যমে মাদ্রাসার পরিস্থিতি তুলে ধরে শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আবেদন জানানো হয়। আবেদনপত্রটি পাঠ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ড. আবসার আজহারি। উক্ত পত্রটি কওমি ভিশনেরর হাতে এসেছে। সকলের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

পবিত্র মাহে রমযানে দেশবাসীর প্রতি আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষা পরিচালনা কমিটি ও সকল উস্তাদগণের পক্ষ থেকে

বিশেষ আবেদন

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।

নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী আলা রাসূলিহীল কারীম। আম্মাবাদ,

প্রিয় ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইয়েরা!

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা ১৯০১ইং সনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১২০ বৎসর যাবত ইসলামের নিরলস খেদমত করে আসছে। আমাদের পূর্বসুরি আকাবিরদের প্রতিষ্ঠিত ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-দর্শনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের জনসাধারণের মাঝে ইসলামের সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষার প্রচার-প্রসার, ইবাদত-বন্দেগীর সুন্নাহভিত্তিক অনুশীলন, দাওয়াত ও তাবলীগ এবং আদর্শ নাগরিক গড়ার মহান লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে অত্র জামিয়া প্রতিষ্ঠা হয়।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার আলেম, ক্বারী, মুফতি, মুহাদ্দিস, হাফেজ, লেখক ও দ্বীনের দায়ী তৈরি হয়ে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। তাছাড়া শিক্ষিত, সৎ ও আদর্শ জাতি গঠন এবং সমাজ বিনির্মাণে এই জামিয়া অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া গরীব, এতীম ও অসহায়দের মাঝে আদর্শ শিক্ষা বিস্তারে এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গরীব, এতীম ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রকে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে এবং ফ্রি খোরাকী ও আবাসন সুবিধা দিয়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

সুপ্রিয় দেশবাসী!

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত। বর্তমানে অত্র জামিয়ার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ১০০ জন এবং ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৮,০০০ জন। তন্মধ্যে ৪,৭০০ জন গরীব, এতিম ও মেধাবী ছাত্রকে বিনামূল্যে বোর্ডিং থেকে খোরাকী প্রদান করা হয়। একমাত্র আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত ও দয়া এবং সর্বসাধারণের আর্থিক অনুদান ও সাহায্য-সহযোগিতার উপর ভিত্তি করেই অত্র জামিয়া পরিচালিত হয়। দুনিয়ার বুকে খালেস দ্বীনি শিক্ষাকে চালু রাখার প্রচেষ্টায় সাধ্যমতো সহযোগিতা করা প্রত্যেক মুসলমানের দ্বীনি দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে আলহামদুলিল্লাহ আপনারা সবসময় এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থেকে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতা, সমর্থন ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।

প্রিয় দেশবাসী!

মাহে রমযান কওমি মাদরাসাসমূহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। কারণ, সাধারণত: এ মাসেই মুসলমানগণ যাকাত, ফিতরাহ আদায় এবং অধিক সাওয়াব অর্জনের আশায় দান-সদক্বা বেশি করে থাকেন। এটা সুন্নাতও বটে। আর মাদরাসাসমূহের লাখ লাখ গরীব, এতীম ও আর্থিকভাবে অসহায় ছাত্রের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা ব্যয়ের গোরাবা ফা-ের সিংহভাগ অর্থ এই রমযান মাসেই সংগ্রহ হয়ে থাকে। আর কিছু অংশ সংগ্রহ হয়ে থাকে কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রয়ের অর্থ থেকে। যা দিয়ে গরীব-এতীম ছাত্রদের সারা বছরের খোরাকী ও অন্যান্য খরচ নির্বাহ করা হয়।

প্রিয় দেশবাসী!

আপনারা সকলে নিশ্চয় জানেন, এক বছরেরও অধিক সময় আগে থেকে বিশ^ব্যাপী করোনা মহামারির প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশে^র অন্যান্য দেশের মতো গত বছর মার্চ মাস তথা মাহে রমযানের আগে থেকে লাগাতার পবিত্র কুরবানীর পর পর্যন্ত দেশব্যাপী লকডাউন পরিস্থিতি বজায় ছিল। যে কারণে গত বছর কওমি মাদরাসাসমূহ রমযানের যাকাত-ফিতরা, সাধারণ দান এবং কুরবানীর চামড়া বিক্রয়ের অর্থ সংগ্রহে বড় ধরণের সংকটের মুখে পড়ে। এতদ সত্ত্বেও আপনাদের অনেকে গত বছর স্ব-উদ্যোগে দান-সদক্বা ও সাহায্য-সহযোগিতার অর্থ পাঠিয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমরা বিশেষ শোকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহর ইচ্ছায় চলতি রমজান থেকে পুনরায় করোনা মাহামারির প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশব্যাপী আবারো কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়েছে। এই লকডাউনের কারণে জনচলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে পড়ায় মাদরাসার উস্তাদ ও প্রতিনিধিগণ আপনাদের কাছে গিয়ে মাহে রমজানের যাকাত, ফিতরা ও অন্যান্য দানের অর্থ সংগ্রহে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন। আর আল্লাহ না করুন, এবারের রমজানেও যদি জামিয়ার গোরাবা ফা-ের অর্থ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম এবং হাজার হাজার গরীব ও এতিম ছাত্রের ভরণ-পোষণ চালু রাখা সংকটের মুখে পড়তে পারে ।

প্রিয় দেশবাসী!

আলহামদুলিল্লাহ দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসাসহ দেশের আরো বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদে মহামারির বিপদ থেকে দেশ ও জাতির নিষ্কৃতির জন্য ক্বুনুতে নাযেলার আমল শুরু হয়েছে। রহমত, বরকত ও নাজাতের এই মাহে রমজানে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী, কুরআন তিলাওয়াত, শেষ দশ দিন ইতিকাফ আদায় এবং সমর্থ অনুযায়ী অধিক পরিমানে দান-সদক্বা করে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে করোনার বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সকল মুসলমানকে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। হাদীসে আছে, দান-সদক্বার ফলে আপদ-বিপদ ও বলা মুসিবত দূর হয়।

প্রিয় দেশবাসী!

চলমান লকডাউন পরিস্থিতির কারণে এ বছরও মাদরাসার প্রতিনিধিগণ হয়তো আপনাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন না। গত বছরের মতো চলতি রমজানেও আপনাদের প্রিয় এই প্রতিষ্ঠানের বিশাল ব্যয় নির্বাহে সহযোগিতার অংশ হিসেবে নিজ নিজ সদক্বা-ফিতরা, নযর, কাফফারা ও দানের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে বা এলাকাভিত্তিক সম্মিলিতভাবে মাদরাসার ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশ নম্বরে জমা করে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এবং বহুমুখী দ্বীনি খিদমতের ধারা অব্যাহত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে অফূরন্ত সাওয়াব লাভ করবেন। দান-সদক্বার অর্থ জমা দিতে প্রয়োজনে জামিয়ার ০১৮১৯-৩২৩৬০২ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও সহযোগিতা নিতে পারবেন। আমরা পূর্ণ আশাবাদি, জামিয়ার এই সংকটে আপনারা পূর্বের ন্যায় পাশে থাকবেন। দেশের ভিতরে ও বাইরে জামিয়ার যেসব ফারেগীন এবং মুহিব্বীন ইমাম, খতীব, মুয়াজ্জিনগণ আছেন, তাদের কাছেও আবেদন থাকবে, আপনারা যার যার অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে উম্মুল মাদারিসের দায়িত্বশীলদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে রসিদ বই সংগ্রহ করে রমযানের সদক্বা-ফিতরা ও দানের অর্থ সংগ্রগে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি স্থানীয় অন্যান্য ক্বওমি দ্বীনি মাদরাসাসমূহের প্রতিও খেয়াল রাখবেন। এতে করে দয়াময় আল্লাহ আপনাদের বিপদাপদ দূর ও সকল কাজে বরকত দান করবেন, ইনশাআল্লাহ।

 

প্রিয় দেশবাসী!

পরিশেষে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও দুঃখের সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বলতে হচ্ছে, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ১২০ বছর পর কিছু আদর্শচ্যুত ও স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারী দেশের ভিতরে এবং দেশের বাইরে উম্মুল মাদারিসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। উম্মুল মাদারিসের সকল ফারেগীন, অত্র অঞ্চলের ইমাম-খতীব এবং সর্বস্তরের তাওহিদী জনতার কাছে আমাদের বিশেষ আহ্বান থাকবে, আল্লাহ না করুন, যখনই আপনারা শুনবেন আপনাদের প্রিয় এই উম্মুল মাদারিস দুষ্কৃতকারীদের কোন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, তখনই আপনারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে উম্মুল মাদারিসের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসবেন। এই প্রতিষ্ঠান কওমের তথা আপনাদের। দুষ্কৃতকারীদের যে কোন ষড়যন্ত্র থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করাও আপনাদের দায়িত্ব। অপরদিকে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিও আমাদের সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা, ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন। অন্যথায় আল্লাহর ইচ্ছায় ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত হয়ে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।

করোনা মহামারি থেকে দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সকলে দোয়া করবেন। বিশেষ করে মাহে রমজানের ছুটির পর যাতে দেশের সকল নাজেরা, হেফজখানা এবং কওমি মাদ্রাসাসমূহ খোলা হয়ে পবিত্র কুরআন-হাদীসের দরস ও চর্চা শুরু হয়, এ জন্য দোয়া করবেন। কারণ, দেশের হাজার হাজার হেফজখানা কুরআন তিলাওয়াত শুরু হলে এবং কওমি মাদরাসাসমূহে কুরআন-হাদীস ও ইলমের চর্চা শুরু হলে এর বরকতে দেশের উপর থেকে সকল বলামুসিবত দূর হবে, রহমত ও বরকত নাযিল হবে।

আপনাদের সকলের সুখ-শান্তি, নিরাপদ ও বরকতময় জীবনের জন্য দোয়া করছি। আপনারাও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার উন্নতির ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করবেন।

পরম করুণাময় আল্লাহ সকলের সহায় হোন। আমীন।


আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মজলিসে এদারি, মজলিসে ইলমি এবং সকল উস্তাদের পক্ষে-

(আল্লামা মুফতি আব্দুচ্ছালাম চাটগামী দা.বা.)

প্রধান, মজলিসে এদারি (পরিচালনা পরিষদ)

আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

তারিখ- ৮ রমযান, ১৪৪২ হিজরী।

Leave a comment

add

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
%d bloggers like this:
%d bloggers like this: